মুন্সীগঞ্জের চর আব্দুল্লায় মেঘনা নদীতে বালু কাটার সময় গতকাল সোমবার চাঁদপুরের মোহনপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা গুলি চালায়। এ ঘটনায় নদীতে ঝাঁপ দেয়া সেখানকার ৫ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে। চাঁদপুর পুলিশ ১২টি ড্রেজার ও ৫টি বলগেড আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে গেছে। মেঘনার বালু মহালের ইজারাদার বিজয় এন্টারপ্রাইজের ব্যবসায়িক অংশীদার নাসির মেম্বার জানান, বালু কাটার সময় দুপুর ১২টার দিকে চাঁদপুরের মোহনপুর ফাঁড়ির পুলিশ নৌযোগে এসে তাদের উপর আক্রমণ চালায়। এ সময় পুলিশ ড্রেজার শ্রমিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এ ঘটনায় তাজুল, আলতাফ, শরীফ, নাজমুল ও হান্নান নামে ড্রেজারের ৫ শ্রমিক নদীতে ঝাঁপ দেয়। এখনও তারা নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, যে জায়গায় ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হচ্ছিল সেটি মুন্সীগঞ্জের বালু মহাল। চাঁদপুর পুলিশের আওতাভুক্ত এলাকা নয়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সেখানে চাঁদপুরের মোহনপুর ফাঁড়ির পুলিশ গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন- গুলিবর্ষণের ঘটনা তিনি শুনেছেন।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আমির জাফর জানান, সেখানে মতলব (উত্তরের) ইউএনওর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট হয়েছে। কিন্তু গুলিবর্ষণের কোন খবর আমার জানা নেই। চাঁদপুরের মতলব (উত্তরের) ইউএনও মফিজুল ইসলাম মোবাইল কোর্টের সত্যতা স্বীকার করে বলেন , ঘটনাস্থলের খানিক দূরে আমি নদীর তীরে ছিলাম। বালু মহালটির ইজারাদার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসারউদ্দিন ভূইয়া বলেন- তারা বৈধভাবে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নিয়ে বালু কাটছিল। ঘটনার আগে সকালে মতলব (উত্তরের) থানার ওসি তাকে বালু মহালের ইজারার কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে থাকতে বলেন। পরে তার লোক ইজারার সকল কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পুলিশ এসে কোন কাগজপত্র না দেখে আকস্মিক গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশ ১৫-১৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এসময় আমার ৫ শ্রমিক নিখোঁজ হন।
