যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভার্সিটিতে ছাত্র খুন

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৭
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে দিনে দুপুরে ক্যাম্পাসে ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। নিহত নাইমুল ইসলাম রিয়াদ (২৩) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ছাত্রলীগ যবিপ্রবি শাখার সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসানকে। সোমবার রাতের মধ্যে ছাত্রদের এবং আজ মঙ্গলবার সকালের মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানান, গতকাল দুপুরে রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় গেটের সামনে অবস্থান করছিলেন। এসময় যশোর শহর থেকে ৩টি মোটর সাইকেলে ৯ জন বহিরাগত সেখানে উপস্থিত হয়। তারা এলোপাতাড়ি তাকে ছুরিকাঘাত করে মোটর সাইকেলেই শহরের দিকে ফিরে যায়। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পিকাপে মুমূর্ষু অবস্থায় রিয়াদকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল বিকালে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। রাতে লাশ তার বাড়ি ঢাকার সেগুনবাগিচার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। কে এই রিয়াদ:রিয়াদ ঢাকার সেগুনবাগিচার মনিরুল ইসলামের ছেলে। থাকতেন শহীদ মশিউর রহমান ছাত্রাবাসে। বিভিন্ন সূত্রে রিয়াদ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য জানা গেছে। হলের সহপাঠীরা জানান, রিয়াদ রাত জেগে আউটসোর্সিং-এর কাজ করতেন। বেলা ১২-১টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে ক্যান্টিনে খেতে যেতেন। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসান দাবি করেন, রিয়াদ ছিলেন মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। হলের ছাত্রদের কাছে তিনি মাদক সরবরাহ করতেন। অপর একটি সূত্র জানায়, বছর দুই আগে জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র শামীম হাসানের সঙ্গে রিয়াদের ব্যক্তিগত বিরোধ হয়। এর রেশ ধরে তিনি কিছুদিন আগে রিয়াদকে ‘দেখে নেবার’ হুমকি দেন। তবে শামীম দাবি করেন, রিয়াদের রিপোর্ট মোটেও ভালো না। রাজনৈতিক পরিচয়ের ধূম্রজাল: নিহত রিয়াদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে। অন্যদিকে ছাত্রলীগ যবিপ্রবি শাখার সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ইত্তেফাককে বলেন, রিয়াদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, রিয়াদের ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত থাকার ব্যাপারে দুই ধরনের কথা আমরা শুনেছি। একথাও শুনেছি কমিটি গঠন নিয়ে তার সাথে অপর গ্রুপের বিরোধ ছিল। শামীমের ভাগ্নে তানভীরের সাথে বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অপর একটি সূত্র দাবি করেছে। যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াদ হোসেন জানান, ছাত্রলীগের একটি পক্ষ রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় হলে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। এতে অংশ না নেয়ায় রিয়াদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি ফেরা হলো না: ২১ জুলাই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদের ছুটি শুরু হবার কথা ছিল। গতকাল রাতে রিয়াদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। এজন্য রবিবার তিনি অগ্রিম টিকিটও কেনেন কোচের। কিন্তু নৈশকোচের যাত্রী হয়ে না—কফিনে বন্দী হয়ে ফিরতে হলো তাকে বাড়িতে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সুব্রত বিশ্বাস এবং জেনেটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র এসএম শামীম হাসানকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে কী হত্যাকাণ্ডে তারা জড়িত এবং ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এখানে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। তাই কথিত রাজনৈতিক কোন্দলের বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না।’