আজ ১৬ রমজান। রমজান মাসে সিয়াম পালন করা রীতিমতো নফেসর সঙ্গে জিহাদ করা হয়। জিহাদ শব্দের শব্দমূল জহদ। এর অর্থ চেষ্টার পর চেষ্টা, পরিশ্রম, অধ্যবসায়, সংগ্রাম, যুদ্ধ। আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু ইরশাদ করেন: যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করবো। আল্লাহ্ অবশ্যই সত্কর্মপরায়নদের সঙ্গে থাকেন। (সূরা আন্কাবূত: আয়াত-৬৯)।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ৬১০ খৃস্টাব্দের রমজান মাসে প্রথম ওহী প্রাপ্ত হন তার কিছুদিনের মধ্যে ইসলাম প্রচার করার নির্দেশ লাভ করেন। তিনি ইসলাম প্রচার করতে মক্কার কাফির মশুরিকরা তাঁর উপর নানা ধরনের জুলুম-নির্যাতন চালায়। এই সময়ে তাঁর নিকট যেসব ওহী নাযিল হয় তাতে জিহাদ শব্দের উল্লেখ থাকলেও তা ছিলো ধৈর্য ধারণ করা এবং হিকমতের সঙ্গে সুন্দর সুন্দর উপদেশ দ্বারা প্রচার করার অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। একবার এক অভিযান থেকে ফেরার পথে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমরা ছোটো জিহাদ থেকে বড় জিহাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। এখানে ছোটো জিহাদ হচ্ছে অস্ত্রদ্বারা যুদ্ধ আর বড় জিহাদ হচ্ছে নফেসর সঙ্গে যুদ্ধ। কবি আবুল আতাহিয়া তাঁর এক কবিতায় বলেন: আশাদ্দুল জিহাদ জিহাদুল হাওয়া- সর্বাপেক্ষা কঠিন যুদ্ধ প্রবৃত্তির সঙ্গে যুদ্ধ।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্র নির্দেশে মক্কা থেকে ২৯৬ মাইল উত্তরে অবস্থিত প্রাচীন নগরী ইয়াসরিবে হিজরত করে এলেন। ইয়াসরিবের নামকরণ হলো মদীনাতুন নবী, এখানে একটি নগর রাষ্ট্র স্থাপিত হলো। কিন্তু এটা সহ্য করতে পারলো না। মক্কার কাফির মুশরিকরা মদীনার ইয়াহূদী ও কিছু মুনাফিকের সঙ্গে আঁতাত করলো মদীনা আক্রমণ করার রক্ষ্যে তাদের নেতা আবূ সুফিয়াকে অস্ত্র কেনার জন্য সিরিয়া পাঠালো। এ খবর প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহুর কাছে পৌঁছলো। কিন্তু তখনও কিতালের নির্দেশ আসেনি। ইতোমধ্যে ওহী এলো: যুদ্ধের (কিতালের) তাদের যারা আক্রান্ত হয়েছে, কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার চালানো হয়েছে (সূরা হজ্জ: আয়াত-২২)।
