আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদ। আর ঈদ এলেই নাড়ীর টানে গ্রামের পথে ছুট দেয়া এ যেন প্রতি বছরের নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। রমজান ২০টি পূর্ণ হতে না হতেই বেশিরভাগই ব্যাগ-বইপত্র বাঁধাছাদা শেষ করে রওনা হয় ফেলে আসা গ্রামেরপানে। এই তালিকায় শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। সারা বছর এসব শিক্ষার্থীদের অনেকেরই পড়ালেখার চাপে নিয়মিত বাড়িও যাওয়া হয় না। আর তাই রমজানের ছুটি শুরু হতে না হতেই এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তবে ভিন্ন চিত্রও দেখা যায়।
‘প্রতি বছরই তো গ্রামে ঈদ করি, তবে এবারে ঠিক করেছি বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ক্যাম্পাসেই ঈদ করব। আর তাই আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে এবার ক্যাম্পাসেই থেকে যাচ্ছি’ নিজেদের ঈদ আয়োজনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে এভাবেই বলছিলেন তানভীর সিদ্দিকী।
তবে ভিন্ন কথা বললেন পাশে থাকা তারই আরেক সহপাঠী রেজওয়ান। রেজওয়ান জানান, ‘এতদিন পর বাবা মায়ের সাথে ঈদ করার মজাই আলাদা। অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও পড়াশোনার চাপে আর যাওয়া হয়ে ওঠে না। তাই ঈদের মত এত বড় একটা আয়োজনে বাবা মাকে কাছে না পেলে পুরো আনন্দটাই মনে হয় মাটি হয়ে যায়। আর তাই এবারে এত বড় একটা ছুটি যখন পেয়েছি তখন আর তা হারাতে চাই না। তাই ঈদের যত আগে পারি গ্রামের দিকে রওনা হয়ে যাব। আপনজন ছাড়া কী ঈদের আনন্দ উপলব্ধি করা যায়’।
এবারের ঈদ কোথায় করবেন জানতে চাইলে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আরাফাত জানান, গত বছর ঈদের পর পরই পরীক্ষা ছিল। মূলত পরীক্ষার কারণেই বন্ধুদের সাথে ঢাকায় ঈদ করেছিলাম। বাবা মা সবাইকে ছেড়ে ঈদ করতে কী যে কষ্ট হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে ছোট বোনটার জন্য। ও আবার আমার খুবই ভক্ত। তাছাড়া ঈদ এলেই ঢাকা একেবারেই ফাঁকা হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়ার যে কী কষ্ট করেছি। ঈদের জন্য সব হোটেল রেস্তোরাঁগুলোও ছিল বন্ধ। তাই নিজেদের রান্না-বান্না করতে হয়েছে নিজেদেরকেই। যার ফলে ঈদের সময়টাকে খুব বেশি একটা উপভোগ করতে পারিনি। তবে এবারে আর সেই ভুল করছি না। এবার ঈদের আগেই সব পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। তাই চিন্তা করেছি ঈদের এক সপ্তাহ আগেই গ্রামে চলে যাব।
তবে ঢাকার স্থানীয় শিক্ষার্থী রায়হান জানান, ঈদ এলেই ক্যাম্পাসের সব বন্ধুরাই গ্রামে চলে যায়, তখন নিজেকে খুবই একা মনে হয়। এবারে ঈদের জন্য বিশেষ কোন প্ল্যান নেই। বেশিরভাগ সময়টাই ঘরে কাটাবো। আর বন্ধুদেরকে খুব মিস করব।
