খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
তাসনিম আশিকের মায়ের ইচ্ছা মেয়েকে ডাক্তার বানানো। আর বাবার ইচ্ছা সামাজিক কাজে কার্যকর এমন একটি বিষয়ে পড়ানো। স্নাতক ভর্তি পরীক্ষার জন্য তাই দুভাবে প্রস্তুতি নেয় সে। মেডিক্যাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, দুটোতে ভাল করার জন্য উঠে পড়ে লাগে। দুইবছর আগে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়। ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় সে উতরেও যায়। পরবর্তীতে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা দিলে সাফল্য সেভাবে ধরা দেয়নি। তবে ইচ্ছা করলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ ছিল। যেদিন মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দেয়, সেদিন মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ায় তার বাবা। স্বান্ব্তনা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ডাক্তার ভূরিভূরি হচ্ছে, তারচেয়ে তুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানে ভর্তি হয়ে যা। আমাদের দেশে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বাবার প্রেরণাতেই সে পড়ার জন্য বেছে নেয় খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগ।
এখানে পড়তে এসে বিষয়ের প্রতি ভাল লাগা দিনদিন বাড়তে থাকে। তাসনিম বলেন, উন্নতদেশে মানুষ অসুস্থতায় পড়লে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি একজন পুষ্টিবিদের কাছেও যায়। কারণ, ডাক্তার তাকে রোগের ওষুধ দিচ্ছে সুস্থ হওয়ার জন্য, কিন্তু শরীরের ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য খাওয়া, ব্যায়ামসহ আনুষঙ্গিক কাজের সঠিক রুটিন দিতে পারে একজন পুষ্টিবিদ। এ বিষয়ের ক্যারিয়ারের ক্ষেত্র সম্পর্কে তাসনিম জানান, বাংলাদেশে সরকারি এবং বেসরকারি বড় হাসপাতালগুলোতে পুষ্টিবিদ রয়েছে। ইউএনডিপি, ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রত্যেক দেশে পুষ্টিগত সমস্যা নিয়ে কাজ করে। অপুষ্টির শিকার হওয়ার কারণ কি তা গবেষণা করে বের করে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনও পুষ্টি নিয়ে বিভিন্ন ফিল্ড ওয়ার্ক এবং গবেষণা চালিয়ে থাকে। ডায়াবেটিক হাসপাতালসমূহ, আইসিডিডিআরবি, খাদ্যপণ্যের মাননিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই, খাদ্যপণ্য তৈরিকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মান নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণার জন্য পুষ্টিবিদ রেখে থাকে।’
খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগে পড়ার জন্য বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হতে হয়। পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে তার ভাষ্য, ‘বাংলাদেশে এ বিষয় সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আমাদের দেশে গ্রাম, চরাঞ্চল এবং বস্তিগুলোতে অপুষ্টির শিকার হওয়া মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক। তারা জানেও না, একজন মানুষ সুস্থ, সবল এবং নিরোগ থাকার জন্য দৈনিক কত ক্যালরি খেতে হয়। কোন খাদ্যগুলো শরীরের জন্য মানানসই।’
