টিকে থাকবে ম্যাকগ্রার রেকর্ড

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ২২:২৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

 

ক্রিকেট বোদ্ধারা একটা কথা প্রায়ই বলেন— আধুনিক ক্রিকেট নাকি অনেকটাই এগিয়ে গেছে! এখনকার ব্যাটসম্যান কিংবা বোলাররা নাকি তাদের পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে গেছেন অনেকটাই।  কথাটা শুনলে সাবেক এক অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার মুখ চেপে হেসে ফেলতে পারেন। যদিও, তার মুখে সামান্যতম অভিব্যক্তি নেই বললেই চলে!

লিকলিকে শরীর, দীর্ঘকায় গড়ন। উইকেটের কন্ডিশনকে থোড়াই কেয়ার করে অফ স্ট্যাম্পের বাইরে একের পর এক বল করে যাচ্ছেন কোমড়ের চেয়ে একটু বেশি উচ্চতায়। ব্যাটসম্যান একটু অসতর্ক হয়ে ব্যাট চালালেই বিপদ। মাঠের অন্য সব অংশ অরক্ষিত রেখে স্লিপে ফিল্ডার দাঁড় করানো হয়েছে পাঁচজন। তাদের কারো হাতে জমা পড়বে বল!

ক্রিকেটকে বেশ কয়েক বছর আগেই বিদায় জানালেও ক্রিকেটভক্তরা এরই মধ্যে হয়তো চিনে ফেলেছেন বোলারটিকে। তিনি হলেন গ্লেন ম্যাকগ্রা। অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বল করে যাওয়া ম্যাকগ্রাকে বিশ্বকাপের ঠিক আগের মুহূর্তে স্মরণ করতে হচ্ছে আরেকবার। কারণ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে ম্যাকগ্রার সাফল্য এতটাই যে, পরিষ্কার বলে দেওয়া যাচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারছেন না কেউ।

অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সি গায়ে ৩৯ ম্যাচ খেলে তার উইকেট সংখ্যা ৭১। ঈর্ষণীয় এই ডানহাতি পেসারের ইকোনমিও। ওভার প্রতি চারের ও কম রান দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগারটাও তিন বিশ্বকাপ জেতা এই পেসারের দখলে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ১৫ রানের সাত উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখনো তালিকায় সবার উপরে। ১৯৯৯ থেকে ২০০৭ এক নাগাড়ে টানা তিনবার বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ম্যাকগ্রা। তাই, কেন তিনি এ তালিকার শীর্ষে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

খুব বেশি পিছিয়ে নেই শ্রীলঙ্কার স্পিন জাদুকর মুত্তিয়া মুরালিধরনও। শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্যর দখলে ৬৮ উইকেট। তালিকায় পরের স্থানেই আছেন আরেক কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনালে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক ওয়াসিম ৩৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৫৫ উইকেট। এর পরেই আছেন চামিন্দা ভাস। শ্রীলঙ্কার জার্সি গায়ে সম্ভবত এ যাবত্কালের সেরা পেসার বিধ্বংসী ভাস। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন নিজের সেরা ফর্মে। ৩১ ম্যাচে ৪৯ উইকেট শিকার করে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করা ভাস ১৯৯৬ আসর জয়ী লঙ্কান দলেরও সদস্য ছিলেন। বিশ্বকাপে তার বোলিং গড় ২১.২২। চার উইকেট শিকার করেন দুই ম্যাচে। এর পরেই আছেন দুই ভারতীয় জহির খান ও জাভাগাল শ্রীনাথ। ভারতীয় দুই কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার বিশ্বকাপে যথাক্রমে ২৩ ও ৩৪ ম্যাচে ৪৪টি করে উইকেট শিকার করেছেন। এরা সবাই ক্রিকেট খেলাই ছেড়ে দিয়েছেন অনেকদিন হলো।

ছয়ে আছেন শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা। তিনি এবারই শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। বিশ্বকাপের ২২টি ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৪৩। এবারের বিশ্বকাপে খুব বড় কিছু করে ফেলতে না পারলে তার পক্ষেও ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব। এর বাদে এই মুহূর্তে খেলছেন এমন কেউ ধারে কাছেও নেই। সুতরাং নিশ্চিতভাবেই বলা যাচ্ছে, আগামী কয়েকটা বিশ্বকাপে অন্তত ভাঙছে না ‘দ্য পিজিয়নের’ সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড।