উজিরপুরে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে মাষ্টারদা সূর্যসেন অনাথ আশ্রম

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৪, ২১:১৫
সরকারি কোন অনুদান ছাড়াই টানা ৩১ বছর ধরে অনাথ শিশুদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে উজিরপুরের মাষ্টারদা সূর্যসেন অনাথ আশ্রম। বর্তমানে সেখানে ৭৫ জন শিক্ষার্থী বিনা খরচে থাকা-খাওয়া ও পড়াশুনার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। অজপাড়া গাঁয়ের দুঃস্থ ও এতিম শিশুদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে মহতী এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রনজিত কুমার রায়। ব্রিটিশ শাসনের নাগপাশ থেকে দেশ-মাতৃকাকে মুক্ত করতে আত্ম উত্সর্গকারী অগ্নিপুরুষ চিরকুমার বিপ্লবী মাষ্টারদা সূর্যসেনের স্মৃতি ধরে রাখতেই রনজিত কুমার রায় ১৯৮৩ সালে হরিসভা সেবাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের ১ একর ৭৩ শতক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হরিসভা সেবাশ্রম পরবর্তীতে উজিরপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিসভা সেবাশ্রমে রূপ নিয়েছে। সেবাশ্রমটি ঘুরে দেখা গেছে সেখানকার শিশুসদনে বর্তমানে ৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ৪৪ জনই অনাথ, ২৮ জন দুঃস্থ ও ৩ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও শিক্ষকদের বেতনাদি ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বহন করা হয়। অনাথ ও দুঃস্থ শিশুরা এখানে থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি শিশু শ্রেনী থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পারে বিনা খরচে। তাদের জন্য রয়েছে বেতনভুক্ত ৩ জন স্থায়ী ও ২২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক। একজন মন্দিরের পূজারী, একজন পাচক, একজন দারোয়ান ও একজন তত্ত্বাবধায়ক। নিয়মিত পাঠ্য-পুস্তকের বাইরে শিশুদের সুশিক্ষিত-সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে জ্ঞান ও কর্মধারার মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, অবহেলিত-দুঃস্থ মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ করার সকল জ্ঞান দেয়া হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা রনজিত কুমার রায় জানান, সেখানে থাকা অফিস, দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি কম্পিউটার কক্ষ, একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কক্ষ, একটি গেস্ট হাউজ, দু’টি আবাসিক ভবন, দু’ডাইনিং, রান্নাঘর ও দু’টি বাথরুম ব্যক্তিগতভাবেই মানুষের কাছ থেকে অনুদান ও নিজের খরচে নির্মাণ করেছিলেন। এগুলোর কোনটির বয়স ৩১ বছর আবার কোনটির বয়স ১৯ বছর। সবগুলোই এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আসবাবপত্রগুলোও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এখন আর নিয়মিত বেতন দিতে পারছেন না। শিশুদের তিন বেলা খাবার তো না দিয়ে পারা যায় না। তাই তাদের খাওয়া-দাওয়ার ও পরিচর্যাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। কিন্তু আর কোন দিকে দৃষ্টি দিতে পারছেন না।