চৌহালীতে ২ হাজার পরিবারে ঈদুল ফিতরের আনন্দ নেই

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৪
আর কয়েক দিন পরে আসছে রহমত আর বরকতের রমজানের ঈদ। মুসলিম জাহানের এ উত্সবকে ঘিরে প্যান্ট, শার্ট, শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর বৈচিত্র্যময় পোশাক কেনার জন্য বিপণী বিতানগুলোতে চলছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারানো ২ হাজার অসহায় পরিবারের জুটছে না স্বল্প মূল্যের ১টি পোশাকও। ঈদের দিন এদের শিশু ছেলে-মেয়েদের মুখে একটু মিষ্টি সেমাই তুলে দেয়াই দুষ্কর। ৪০ বছরে প্রায় ৪০টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়েছে। আর গত ২ মাসের ব্যবধানে বিলীন হয়েছে ঘোরজান, খাসকাউলিয়া, বাঘুটিয়া, উমারপুর ও খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি, আর কয়েক হাজার একর আবাদী জমি। ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে ১১টি উচ্চ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ধনাঢ্যদের মতো বাহারী খাবার খেয়ে নয়, কোন রকমে ডাল, আর ভর্তা-ভাত খেয়ে থাকছে রোজা এবং সাদা পানি মুখে দিয়ে সন্ধ্যায় করছে ইফতার। এমন কথা জানালেন, পশ্চিম খাসকাউলিয়া গ্রামের তীরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেয়া বৃদ্ধা আমিনা খাতুন (৭০), গাজী আব্দুল লতিফ (৬৫), আব্দুর রশিদের মেয়ে হাজরা খাতুন (৩০), শুকুর আলীর স্ত্রী নাসিমা খাতুন (২৫)। আর এখানকার কৃষি শ্রমিক সন্তেষ আলীর শিশু পুত্র মঞ্জুর কাদের (৯) এবং শহিদুল ইসলামের ছেলে সজিব (৮) জানায়, ঈদের দিন পরার জন্য তাদের বাবাকে বলেছে নতুন জামা কিনে দেবার জন্য; কিন্তু বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে যাওয়ায় এবার দিতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে। এদিকে চৌহালী উপজেলার জন্য মাঝে-মাঝেই আসে সরকারি ভাবে ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ; কিন্তু তা ঐসব মানুষের তেমন একটা ভাগ্যে জোটে না। এবারও ঈদ উপলক্ষে চৌহালীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৪৪৩টি ভিজিএফ কার্ড। এসব কার্ড প্রতি দেয়া হবে ১০ কেজি করে চাল। তবে এবার অধিকাংশই যমুনার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বন্টন হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।