অধিকাংশ স্কুল মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার উপযোগী ক্লাসরুম না থাকায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় সরকারের ডিজিটাল ক্লাসরুম কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের পর সরকারিভাবে দেয়া ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ বিভিন্ন উপকরণ।
উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজসহ ৯৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ক্লাসের আওতায় আনার জন্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, মাউস দুটি, স্ক্যানিং মেশিন, পেনড্রাইভ, ইন্টারনেট মোডেমসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজনীয় উপকরণ দেয়া হলেও তা কোন কাজে আসছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে এসব যন্ত্রপাতির প্যাকেট এখনও খোলা হয়নি। শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের প্রাথমিক ধারণাও নেই।
এক বছর পূর্ব তিন ধাপে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় সরকার সরবরাহকৃত এসব যন্ত্রপাতি দেয়া হলেও এখনও নিয়মিত শুরু হয়নি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস।
সোনাখালী মহব্বত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার দেব জানান, তার বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে এ প্রকল্পের সকল উপকরণ পেয়েছে। ইতিমধ্যে তারা সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে-মধ্যে দু-একদিন ক্লাস করিয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পৃথক না থাকায় পাঠদানে তাদের সমস্যা হচ্ছে।
বড়ইতলা তালিমুননেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষক নাজমা আক্তার জানান, তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কয়েকদিন ক্লাস নিয়েছেন।
এদিকে উপজেলার মফস্বল বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল ক্লাসের এমন হতাশাজনক পরিস্থিতিতে অসন্তোষ বিরাজ করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে। একাধিক অভিভাবকরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিখানো তো দূরের কথা দাপ্তরিক কাজেও কম্পিউটারের ব্যবহার নেই।
মোরেলগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নান জানান, বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাসরুম অবকাঠামোগত নানাবিধ সমস্যার কারণে তুলনামূলকভাবে এ প্রকল্পের আওতায় খুবই কম ক্লাস পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিদ্যমান অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
