প্রথম ১৫ ওভারের ফিল্ডিং সীমাবদ্ধতার নিয়ম চালু হয় ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে। আর এর চার বছর পর এসে সেই নিয়মকে একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। তখনও পর্যন্ত প্রথম ১৫ ওভারে ৫০ থেকে ৬০ রান হওয়াটাকেই যথেষ্ট বলে মনে করা হত। সেটাকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে ভারত, কেনিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লঙ্কান দলটি প্রথম ১৫ ওভারে তোলে যথাক্রমে ১১৭, ১২৩ ও ১২১ রান। এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের। এরপর সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষেও শ্রীলঙ্কা প্রথম ১৫ ওভারে করে ৮৬ রান। এর পিছনে ছিল কোচ ডেভ হোয়াটমোরের ক্রিকেট মস্তিষ্ক। আর মাঠে সেটা করে দেখাতে দুই ওপেনার সনাথ জয়সুরিয়া ও রমেশ কালুভিতারানা। সেমিফাইনালে ইডেন গার্ডেন তো বটেই গোটা ভারতকেই কাঁদিয়ে ছাড়ে শ্রীলঙ্কা। এক লাখ দর্শকের সামনে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা আট উইকেটে তোলে ২৫১। আর ৩৫তম ওভারে মাত্র ১২০ করতেই আটটি উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। এরপর হতাশ সমর্থকদের ‘বোতল-হামলা’য় প্রায় ২০ মিনিটের মত বন্ধ থাকে ম্যাচ। এরপর পুনরায় খেলা শুরু হলেও দর্শকদের থামিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। ম্যাচ রেফারি ক্লাইভ লয়েড তাই বাধ্য হয়েই শ্রীলঙ্কাকে জয়ী ঘোষণা করে দেন। লাহোরের গাদ্দাফী স্টেডিয়ামের ফাইনালে বড় একটা জুয়াই খেলে শ্রীলঙ্কা। ইতিহাস বলে প্রথমে ব্যাট করারাই জিতে বিশ্বকাপের শিরোপা। আর শ্রীলঙ্কা টসে জিতে নেয় বোলিং। অস্ট্রেলিয়া করে ২৪১ রান। জবাবে মাত্র ৪২ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলে লঙ্কানরা। এরপরেই দৃশ্যপটে হাজির হন অরবিন্দ ডি সিলভা। তার অপরাজিত ১০৭ রানের কল্যাণেই শেষ পর্যন্ত প্রথম বারের মত বিশ্বকাপ জিতে নেয় কোনো স্বাগতিক দেশ। অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গার হাতে বিশ্বকাপের ট্রফি ওঠার সাথে সাথে নিজেদের ক্রিকেটের নতুন পর্বে পা রাখে দেশটি।
