পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের চাহিদা বিবেচনা করে এবারও চালু করা হচ্ছে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস। এই সুযোগে বাড়তি টাকা কামাতে ব্যবসায়ীরা পুরনো ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করছে। এর উপর রং করে এগুলোকে নতুন বানানোর চেষ্টা চলছে। ফলে ঘরমুখো মানুষেরা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেই থাকছে।
এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরে লঞ্চঘাটে কোনো ধরনের অনিয়ম করলেই তাদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। কর্তৃপক্ষ বলছেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে লঞ্চঘাটগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
জানা গেছে, শতাধিক ছোট-বড় পুরনো লঞ্চে রং ও মেরামত করে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আর এই লঞ্চগুলোর বয়স ৩০-৪০ বছরেরও বেশি। এই পুরনো লঞ্চগুলোতে রং করা, জোড়াতালি এবং ধোয়ামোছার কাজ চলছে বুড়িগঙ্গার দক্ষিণ পাড় কেরানীগঞ্জে। আর রমজানের শুরু থেকেই এই রং ও মেরামতের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে এরকম কয়েকটি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন শুরু করেছে।
বরাবরের মতো এবারো দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই এসব লঞ্চে বাড়ি ফিরবে। তবে বিআইডব্লিউটিএ বলছে, এবার ঈদে কোনো ফিটনেসবিহীন লঞ্চ বা জাহাজ চলতে দেয়া হবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ তেলঘাট থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় ৩৫টি ডকইয়ার্ডে বিশাল জায়গাজুড়ে পুরনো লঞ্চে রং লাগানো বা মেরামতের কাজ চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডকইয়ার্ড মালিক ইত্তেফাককে বলেন, লক্কর-জক্কর ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চের সংখ্য হবে শতাধিক।
স্বরূপকাঠি ইন্ধিরহাটের বাসিন্দা লঞ্চযাত্রী মো. খোরশেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, আইন-কানুনের কোন তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। প্রতি বছরই পুরনো লক্কর-ঝক্কর চলাচলের অযোগ্য নৌযানগুলো নদী পথে নামানো হয়। এসব লঞ্চ দিয়েই বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করা হয়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম কিছু দেখছি না। কর্তৃপক্ষ হাঁকডাক দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুদ্দোহা খন্দকার ইত্তেফাককে বলেন, পুরনো লঞ্চগুলোতে রং করে বা মেরামত করে নতুনভাবে নামানোর কোনো সুযোগ নেই। লঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে কোনো বিশেষ সার্ভিসও দেয়া হবে না। তিনি বলেন, প্রতিটি রুটে প্রতিনিয়ত প্রায় অর্ধ-লক্ষাধিক যাত্রী যাতায়াত করলেও ঈদের সময় এই পথে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ যাত্রী চলাচল করে। আর এই অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য বর্তমানে যেসব লঞ্চ নৌরুটে চলাচল করে, সেগুলোর মাধ্যমেই অতিরিক্ত ট্রিপের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ব্যাপারে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ইত্তেফাককে বলেন, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বছর ঈদে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে না পারে এবং ফিটনেসবিহীন নৌ-যান নৌপথে চলাচল করতে না পারে সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যাত্রী হয়রানি বন্ধে আনসার বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব, পুলিশসহ অতিরিক্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য নিয়োগ করা হবে প্রতিটি টার্মিনালে। বিশেষ করে সদরঘাট টার্মিনালে এ ব্যাপারে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন লঞ্চ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ভাটি অঞ্চলে ফিটনেসবিহীন ছোট ছোট লঞ্চ বা কার্গো চলাচল করতে পারলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো নৌপথে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল করতে দেয়া হবে না।
