সাময়িক বিরতি দিয়ে আবারও গাজায় বেপরোয়া বোমাবৃষ্টি শুরু করেছে ইসরাইল। মিসরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর গতকাল থেকে সেটি ‘মেনে নেয়ার’ ঘোষণা দিয়ে ছয় ঘন্টার মাথায় তা নিজেই ভেঙে ফেলে ইসরাইল। এরপর কয়েকটি টার্গেটে নতুন করে বিমান হামলা চালায় তারা। গতকাল পর্যন্ত আট দিনের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২-তে। এছাড়া অগণিত মানুষ আহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।
ইসরাইল দাবি করছে, তারা মঙ্গলবার মিসরের দেয়া একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। কিন্তু ফিলিস্তিনি চরমপন্থি গ্রুপ হামাস রকেট ছোঁড়া বন্ধ না করায় আবার হামলা শুরু করা হয়েছে। তবে ইসরাইলের এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে দাবি করেছে হামাস। কারণ আটদিন আগে ইসরাইল যখন গাজায় আগ্রাসন শুরু করে তখন তারা একতরফাভাবেই তা শুরু করেছিল। তখন ইসরাইলের হামলার পাল্টা জবাব হিসাবে হামাস রকেট ছোঁড়া শুরু করে।
গতকাল দিনের শুরুর দিকে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা ভোটাভুটির মাধ্যমে মিসরের দেয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ছয়টি আর বিপক্ষে দুটি। তবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়নি হামাস। তারা বলেছে, গাজার ওপর থেকে ইসরাইলের অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে নিতে হবে এবং মিসর সীমান্তে রাফাহ ক্রসিং পয়েন্ট খুলে দিতে হবে। এছাড়া পরিপূর্ণ সমঝোতা বা চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলেও হামাস জানিয়েছে। হামাসের সামরিক শাখা ইজেদ্দিন আল-কাসসাম মিসরের দেয়া প্রস্তাবকে অন্যায়ের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ বলে উল্লেখ করেছে। এর আগে হামাসের অন্যতম মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেন, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। ইসরাইল কতকগুলো দাবির বিষয়ে একমত না হওয়া পর্যন্ত তারা রকেট ছোঁড়া বন্ধ করবে না। হামাস প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরাইল বলেছিল তারা মিসরের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নেবে। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যে ফের হামলা শুরু হয়। গতকাল নতুন করে ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়।
২০১২ সালের নভেম্বরে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে আট দিনব্যাপী এক সংঘর্ষে ১৭৭ জন ফিলিস্তিনি ও ৬ ইসরাইলি নিহত হওয়ার পর এবারের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা আগের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। গাজা-ভিত্তিক প্যালেস্টাইনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস রবিবার জানায়, নিহতদের তিন-চতুর্থাংশই বেসামরিক লোক। জাতিসংঘের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, নিহতদের এক-চতুর্থাংশের বেশি শিশু। সপ্তাহব্যাপী আগ্রাসনের শনিবারই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এদিন ৫৬ জন নিহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সঙ্গে সংঘর্ষ বন্ধে মিসরের দেয়া অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব মেনে নিতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, কেরি ইসরাইলের প্রস্তাব মেনে নেয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। কেরি বলেন, ‘অস্ত্র বিরতি ও আলোচনার জন্য মিসরের প্রস্তাব সহিংসতা বন্ধ ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণে ইসরাইলি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং অপর সকল পক্ষকেও প্রস্তাবটি গ্রহণের আহ্বান জানাই।’
