আজ ১৭ রমজান। ৬২৪ খৃস্টাব্দের ১৭ মার্চ মুতাবিক দ্বিতীয় হিজরীর এই দিনে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ গাজওয়ায়ে বদর সংঘটিত হয়েছিলো। মদীনা হতে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত একটি স্থান লোহিত সাগরের উপকূলের এই স্থানটিতে সেকালে ৮ দিনব্যাপী একটা বিরাট মেলা বসতো, লোহিত সাগরের উপকূলে হওয়ায় এর গুরুত্ব ছিলো। এই স্থানে সংঘটিত যুদ্ধ গাজওয়ায়ে বদর বা জংগে বদর নামে পরিচিত হয়। প্রিয়নবী সরকারে দো আলম নূরে মুজাস্সম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর সিপাহ্সালার ছিলেন। মুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিলো মাত্র তিনশো তেরোজন। আর মক্কার কাফির মুশরিক কুরায়শ বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিলো এক হাজার। এ বছরটাই ছিলো রমজানের সিয়াম পালনের বছর। স্বভাবত আল্লাহর নির্দেশে মুসলিমগণ সিয়াম পালন করছিলেন। মুসলিম বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ও অস্ত্রবল মক্কার কাফির মুশরিক কুরায়শ হতে অনেক কম থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর অশেষ রহমতে মুসলিম বাহিনী বিজয় পতাকা উড্ডীন করেছিলেন। এই বিজয় ইসলামের সুদূরপ্রসারী বিজয়ের দ্বার উন্মোচিত করে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : বদর প্রান্তরে যখন তোমরা হীনবল ছিলে আল্লাহ্-ইতো তোমাদের সাহায্য করেছিলেন। (সূরা আল ইমরান আয়াত ১২৩)।
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে আল্লাহর দরবারে বার বার দু’আ করছিলেন: হে আল্লাহ্! তুমি আমার সংগে যে ওয়াদা করেছো তা পূর্ণ করো, হে রাব্বুল আলামীন আজ যদি এই মুষ্টিমেয় লোকের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত তোমার ইবাদত করবার কেউ থাকবে না।
কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে : স্মরণ করো, তোমরা তোমাদের রব্-এর নিকট সাহায্যের জন্য দু’আ করেছিলে তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন : আমি তোমাদের সাহায্য করবো সহস্র ফেরেশতা দ্বারা যারা একের পর এক আসবে। (সূরা আন্ফাল: আয়াত ৯)।
হযরত জিব্রাইল (আ.) এবং হযরত মিকাঈল (আ.)-এর নেতৃত্বে প্রায় ছয় হাজার ফেরেশতা এই যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন।
