পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মিরপুর থানার ওসি সালাহউদ্দিন খানের প্ররোচনা ছিল বলে দাবি করেছেন নিহতের স্বজনরা। তারা বলছেন, দেড় লাখ টাকা না দেয়ায় সুজনকে পিটিয়ে হত্যা করেন এসআই জাহিদুর রহমান খান। এ ঘটনায় ওসি, এসআই জাহিদ ও আসাদকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে পরিবার। পুলিশ এ মামলা নিতে আপত্তি জানালে তারা প্রয়োজনে আদালতে যাবেন।
নিহতের শ্যালক ওমর ফারুক হাসান লুসন বলেন, পিটিয়ে হত্যা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দু’টি আলাদা মামলা করা হবে। মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হচ্ছে, ঘটনার রাতে এসআই জাহিদ শংকরের বাসায় গিয়ে সুজনকে মারধর করেন। এরপর তার স্ত্রী মমতা সুলতানা রুচিকে বলেন, দেড় লাখ টাকা না দিলে তার স্বামীকে মেরে ফেলা হবে। রুচি তখন বলেন, গভীর রাতে এত টাকা পাব কোথায় ? এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদ তাকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে রুচিকে চুলের মুঠো ধরে মারধর করা হয়। এমনকি তাদের শিশু সন্তান মোশারফকে পর্যন্ত আঘাত করা হয়েছে। পরে মিরপুর থানায় নিয়েও সুজনকে পেটানো হয়। এসব ঘটনার উল্লেখ করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে একটি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অপর মামলাটি দায়ের করা হবে।
শনিবার রাতে ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান সুজনকে ধানমন্ডির শংকরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে মিরপুর থানা পুলিশ। গ্রেফতারের সময় এবং পরে থানায় নিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। এরপর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এসআই জাহিদুর রহমান খানকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওমর ফারুক হাসান লুসন আরো অভিযোগ করেন, পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত মূলত এসআই জাহিদ ও আসাদ। কিন্তু ওসির নির্দেশ বা প্রশ্রয় ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না। তাই তাকেও মামলায় আসামি করা হবে। এরই মধ্যে এজাহার লেখা হয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতেই তারা পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারের কাছে যাবেন। কারণ এর আগে রবিবার মিরপুর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি। এবার উপ-কমিশনারও যদি মামলা নেয়ার ব্যবস্থা না করেন তাহলে বুধবার তারা আদালতে যাবেন।
নিহতের ভাই শামীম হোসেন অভিযোগ করেন, মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের ঝুট ব্যবসায়ী মোহনের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক বিরোধ রয়েছে। তার সঙ্গে সখ্য রয়েছে এসআই জাহিদের। মোহনের কথায় এর আগে সুজনের ছোট ভাই সবুজকে গ্রেফতার করেন জাহিদ। পরে তিনি সুজনের কাছে মাসে এক লাখ টাকা করে চাঁদা চান। সেই টাকা না দেয়ায় জাহিদ এই ঘটনা ঘটান।
