এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার র্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ ও সিআইডি কর্তৃক তদন্তের নির্দেশ সংক্রান্ত ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আদেশ সংশোধন করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দেয়া আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি শওকত হোসেন ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
শাহনূর আলম নামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে র্যাব-১৪-এর নয় সদস্যের বিরুদ্ধে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ১ জুন একটি নালিশি আবেদন দায়ের করেন নিহতের ভাই মেহেদী হাসান। এতে বলা হয়, গত ২৯ এপ্রিল শাহনুরকে র্যাব-১৪-এর সদস্যরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরদিন তাকে নবীনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জনৈক আবু তাহের বাদী হয়ে শাহনুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। ওই মামলায় শাহনূরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অসুস্থ শাহনুরকে কারাগার থেকে প্রথমে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ৬ মে কুমিল্ল¬া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেদিনই শাহনুর সেখানে মারা যান। অভিযোগে বলা হয়, র্যাবের নির্যাতনেই শাহনুরের মৃত্যু হয়েছে।
এই নালিশি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ৪ জুন আবেদনটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু এ আদেশের বিরুদ্ধে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন দায়ের করেন র্যাব-১৪ এর একজন সদস্য। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ জুন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করেন নালিশি মামলার বাদি মেহেদী হাসান।
গতকাল হাইকোর্টে শুনানির শুরুতেই এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কাছে আদালত জানতে চান, কোন এখতিয়ারবলে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে র্যাব সদস্য আপিল করেছেন? ফৌজদারি মামলার কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী এরকম আবেদন করার সুযোগ আছে কি? জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, আইন অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট সরাসরি মামলা গ্রহণ এবং কোনো সংস্থাকে তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারে না। অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ দিতে পারত আদালত। একারণেই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ সংশোধন করে জেলা ও দায়রা জজ আদেশ দিয়েছেন।
এরপর জেলা জজ আদালতের আদেশ স্থগিত ও রুল জারির বিষয়ে হাইকোর্ট আদেশ দিতে চাইলে এটর্নি জেনারেল এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, র্যাব বা পুলিশের বিরুদ্ধে রুল জারি করা হলে জাতির কাছে কি বার্তা যাবে তা বিবেচনায় নিতে হবে? আমি মনে করি র্যাবকে আসামির কাঠগড়ায় তোলার জন্যই উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ আবেদন করা হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করতে চাচ্ছি। কারো বিরুদ্ধে কোনো বার্তা দিচ্ছি না বা কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাচ্ছি না। এরপর আদালত শুধু রুল জারি করেন।
