কথার ছলে সন্তানের কাছে কত ধরনের প্রতিশ্রুতিই তো করে থাকেন বাবা-মায়েরা। এই সব প্রতিশ্রুতি বা আবদারের সবগুলোই যে সবসময় মেটানো সম্ভব হয় তা-ও নয়। তবে সন্তানের মামুলি বা অর্থহীন কোনো চাওয়াও যারা অপূর্ণ রাখতে চাননা তাদেরই একজন হিসেবে সম্প্রতি সংবাদের জন্ম দিয়েছেন জেরেমিয়া হিটন নামের এক বাবা। আমেরিকার দক্ষিণ ভার্জিনিয়ার এবিংডনের এই বাসিন্দা তার মেয়েকে কথাচ্ছলে সম্রাজ্ঞী বা প্রিন্সেস বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর এই প্রতিশ্রুতি রাখতেই অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তিনি খুঁজে বের করেন মিশর ও সুদানের মধ্যবর্তী একটি অমিমাংসিত ও বিরোধপূর্ণ এলাকা। নানা সময়ে মিশর ও সুদান উভয় দেশই মাত্র ২০৭১ বর্গ কিলোমিটারের এই ভূখন্ড দাবি করে আসলেও মরু এলাকাটির দখল নিয়ে কারোই বাড়তি কোনো উদ্যোগ ছিল না। আর জনবসতি ও ফসলহীন বীর তাওইল নামের এই এলাকাটিকেই নিজের মেয়ের জন্য বেছে নেন হিটন। এর আগে ২০১২ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসন পেতে ব্যর্থ হলেও এই দফায় তিনি ঠিকই তার উদ্দেশ্যর কথা বোঝাতে সক্ষম হন বিতর্কিত এই এলাকাটির অন্যতম দাবীদার মিশর সরকারকে। আর তাদের অনুমতি নিয়েই তিনি কাঙ্ক্ষিত ঐ স্থানটিতে ভ্রমণ করে সেখানে কিংডম অব নর্থ সুদান নামের একটি নতুন রাজত্বের পতাকা লাগান। আর মজার বিষয় হলো নীল রঙের পটভূমিতে একটি সোনালি রঙের সিল মাছ এবং তিনটি তারকা খচিত এই পতাকাটির নকশা তৈরির কাজটি করে তার মেয়ে এমিলিই। শুধু এখানেই নয়, স্রেফ পতাকা ওড়ালেই যে রাজত্ব প্রতিষ্ঠা হয় না এটা জেনেই এখন এই অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক মালিকানা ও স্বীকৃতি পেতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন হিটন। অন্যদিকে যে সন্তানের জন্য এত কাণ্ড সেই এমিলি ইতোমধ্যেই পরিবার আর পরিচিতদের গন্ডিতে ‘প্রিন্সেস এমিলি’ হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছে।
