আরো ট্রফির স্বপ্নে

শোয়েনস্টেইগার

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০
চোখের নিচে যে আঘাত পেয়েছিলেন, তাতেই অনেকে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন। দরদর করে ঝরতে থাকা রক্ত চেপে ধরে আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন। মাঠে একা যেন দশ জন হয়ে খেলছিলেন। একদিকে মেসিদের আক্রমণ সামলেছেন, অন্যদিকে মেশিনের মতো বল দিয়ে গেছেন সামনে। অনেকেই এখন বলছে, জার্মানদের এই চতুর্থ শিরোপার নেপথ্য নায়ক আসলে বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগার। শোয়েনস্টেইগার নিজে অবশ্য এই এক বিশ্বকাপ জয়ে তৃপ্ত নন। আরও ট্রফির স্বপ্ন দেখছেন তিনি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে। ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার পর বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের কাছাকাছি থেকে ফিরে আসতে হয়েছে শোয়েনস্টেইগারকে। ব্রাজিল বিশ্বকাপ খেলার আগে পাঁচটি বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তিনবার সেমিফাইনালে পৌঁছা শোয়েনস্টাইগার ২০০৮ উয়েফা ইউরোতে স্পেনের কাছে পরাজিত হওয়া জার্মান দলেরও সদস্য ছিলেন। কিন্তু রবিবার মারাকানা স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ জয়ের পরই শোয়েনস্টেইগার ও দলের অন্য সকল খেলোয়াড়ের জন্য সব কিছু পাল্টে গেছে। এটাই শেষবার ট্রফি তুলে ধরা হোক এমনটা চান না শোয়েনস্টাইগার। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় থাকায় তিনি মনে করছেন অদূর ভবিষ্যতে তারা জার্মানির হয়ে আরো অনেক ট্রফি জিততে পারবেন। জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি বলেন, ‘আমরাই দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ জেতা প্রথম ইউরোপীয় দল, সুতরাং এটা বিশেষ কিছু। অবশ্যই এটা এখন আমাদের ক্ষুধা আরো বাড়িয়ে দেবে। আগামী টুর্নামেন্টে আবারো আমরা এমনটা করতে চাই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, দলের তরুণ খেলোয়াড়রা এ টুর্নামেন্ট থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং আমরা ফ্রান্সে অনুষ্ঠেয় ২০১৬ ইউরো কাপেও অবশ্যই এমনটা করতে চাই। ‘আমাদের দলটি বেশ তরুণ তাই এটা খুব সহজ হবে না। কিন্তু আমাদের দলে ফিলিপ লাম, মেসুত ওজিল পার মার্টেসাকারের মত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। এমন সংমিশ্রণ একটা বড় পার্থক্য।’ গত চারবারে দক্ষিণ আমেরিকার মাটি থেকে কোনো ইউরোপীয়ান দল বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করতে পারেনি। সুতরাং নিঃসন্দেহে রিওতে নতুন ইতিহাস রচনা করে সতীর্থদের মত শোয়েনস্টাইগারও গর্বিত। ২৯ বছর বয়সী এ তারকা খেলোয়াড় আরো বলেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপ জেতা প্রথম ইউরোপীয় দল আমরা। ইউরোপের প্রথম দল হওয়ার কারণে এটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’-বাসস