মেসির আত্মত্যাগ তুলনাহীন

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৩১
যদিও লিওনেল মেসি বারবার বলছেন যে, এই গোল্ডেন বলের কোনো অর্থ তার কাছে নেই। বিশ্বকাপ হারানোর পর গোল্ডেন বল পেলেন, কি পেলেন না, তাতে তার কিছু যায় আসে না। কিন্তু সমালোচকরা তার পিছু ছাড়ছেন না। বিশেষ করে ডিয়েগো ম্যারাডোনা যখন বলেছেন ‘গোল্ডেন বল মেসির প্রাপ্য নয়’ তখন সারা বিশ্বেই এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। তবে মেসি অত্যন্ত মূলবান একজন সমর্থককে পাশে পেয়েছেন। সারা জীবনই মেসির বিপক্ষে জয়ের কৌশল এঁটে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ হোসে মরিনহো বলছেন, এটা মেসির বিশ্বকাপই ছিল। মেসি কী পেয়েছে বা পাননি, সেটা নয়; এই বিশ্বকাপে দলের জন্য মেসি যে আত্মত্যাগ করেছেন, সেটাকেই অনেক বড় করে দেখছেন চেলসির বর্তমান কোচ হোসে মরিনহো। মরিনহো মনে করেন, মেসি দলের জন্য খেলতে গিয়ে নিজের লাভালাভ মাঠে বিসর্জনই দিয়েছিলেন। তিনি রীতিমতো ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘ব্যক্তি খেলোয়াড় হিসেবে আমি মেসিকে সবসময়ই শ্রদ্ধা করি। তবে এবার সে দলের জন্য যেভাবে নিজেকে উত্সর্গ করলো, সেটা অসাধারণ। সে এই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার চেয়ে দলের জয় নিয়ে বেশি মনোযোগী ছিল। ওকে বিশ্বকাপে যেখানে খেলতে দেখলাম, এখানে ও খেলে অভ্যস্থ না। ও অনেক নিচে এসে বল নিয়ে আক্রমণ তৈরি করছিল। যেখান থেকে ও বল পাচ্ছিল, সেখান থেকে প্রতিপক্ষের গোল অনেক অনেক দূরে, তিন লাইন ডিফেন্স অতিক্রম করতে হয়। ও সেটাই করে বারবার বল দিয়েছে সতীর্থদের। গোল করার আশায় মেসি ওপরে অপেক্ষা করেনি। ও যদি গোল করে, চটকদার কিছু করে নজরই কাড়তে চাইত, তাহলে ও হিগুয়েইনের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতো। তাহলে হয়তো এর চেয়ে বেশি ওর নামের পাশে লেখা থাকতো। সেটা মেসি করেনি। এটা অনেক বড় আত্মত্যাগ।’ এমনকি মেসি ‘অফ দ্য বল’ যে কম ছোটাছুটি করেছেন, সেটার ব্যাখ্যাও মরিনহো দিয়েছেন। বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুবার খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছেন, ‘মেসির খেলার ধরন নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। মেসি এমনই খেলে। দল ডিফেন্সে থাকলে ও হেঁটে বেড়াবে। কারণ বল যখন আক্রমণে আসবে, তখন ও ফ্রেশ আক্রমণ করার মতো শক্তি জমিয়ে রাখতে পারে। এটা অসাধারণ কৌশল।’ আর ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের জন্য মরিনহো খানিকটা দায় দিচ্ছেন এজেকুয়েল লাভেজ্জির অনুপস্থিতিকে। এই ফরোয়ার্ডকে প্রথমার্ধের পর আর না নামানোতে বিস্মিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ ডাক নামের মরিনহো, ‘আমি জানি না, জনাব সাবেলা কেন লাভেজ্জিকে ড্রেসিংরুমে রেখে দিলেন। এটা ইনজুরির জন্য হলে তো কিছু বলার নেই। কিন্তু লাভেজ্জির বদলে মেসিকে নামানোয় আর্জেন্টিনার ফর্মেশনটাই বদলে গেল, ফলে মেসির সেরাটা পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে গিয়েছিল।’ তবে মেসি বিশ্বকাপ জিতুন আর নাই জিতুন, এই আত্মত্যাগের কারণেই মরিনহোর সেরা হয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার, ‘মেসি ইতিমধ্যে ক্লাবের হয়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করেছে। এখানে টিমম্যান হিসেবে দেখালো, কেন সে সেরা।’ কিন্তু মেসি নিজে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবিত নন। তার হূদয় জুড়ে এখনও বিশ্বকাপ না পাওয়ার যন্ত্রণা। তাই গোল্ডেন বলের প্রসঙ্গ উঠতেই দেশে ফিরে বলেছেন, ‘এই সব পুরস্কারের কোনো অর্থই নেই। আমরা ওখান থেকে একটাই ট্রফি নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম—বিশ্বকাপ ট্রফি। সেটা পেলে আমাদের দেশের মানুষ যে অধীর অপেক্ষা করছিলেন, তার অবসান হতো। আমাদের সমর্থকরা আসলেই ক্লান্ত। দীর্ঘদিন হয়ে গেল, আমরা কিছু জিততে পারছি না।’ তবে এবার অন্তত জয়টা তাদের প্রাপ্য ছিল বলেই মনে করেন এই বার্সেলোনার কিংবদন্তী।