কুমিল্লায় বাক্সে মধু চাষ বাড়ছে

কীটনাশকের কুফলে কমছে প্রাকৃতিক মধু উত্পাদন

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৫০
মধুর জন্য এখন প্রাকৃতিক মৌচাকের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। মধুর চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক সুবিধা থাকার কারণে বাক্সের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মধু চাষ হচ্ছে। লাভজনক এ চাষে অনেকের ভাগ্য ফিরেছে। এখন কৃত্রিমভাবে মৌমাছির চাষ করে মধু আহরণ করা হয়। শহর-বন্দরের অলি-গলিতে ‘মধু লাগবে গো- মধু’ এমন হাঁকডাক করে মাঝে-মধ্যে মৌয়ালরা মধু ফেরী করে বিক্রি করলেও খাঁটি মধু নিয়ে সংশয় যেন থেকেই যায়। গাছের ডালে যদি শোভা পেতে দেখা যায় মৌচাক, আর কানে যদি ভেসে আসে হাজারো মৌমাছির ভন ভন শব্দ তাহলেতো কথাই নেই। এমনই মৌমাছির বড় একটি চাকের দেখা মেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুফুয়া গ্রামের একটি গাছের ডালে। মৌমাছির এ চাক থেকে খাঁটি মধু পেতে কখন চাক ভাঙ্গা হবে এমন খবরও রাখছেন অনেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার আবদুল কাদের (৫৫) নামের একজন মৌয়াল জানান, মৌয়ালরা বড় গাছের সুউচ্চ ডাল বা দুর্গম স্থান থেকে সাবধানে নিচের দিকে আগে মই ফেলে দেন, সেই মই বেয়ে একজন উপরে উঠেন। এরপর ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়িয়ে দুটি লাঠির সহায়তায় একটি চাটাইয়ে মৌচাক বসিয়ে তা নিচে নামিয়ে দেয়া হয়। নিচে থাকা সহযোগীরা সতর্কতার সঙ্গে মৌচাকের চাটাই নামিয়ে নেন। কৃষিবিদদের মতে, এদেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের উন্নয়নে মৌচাষ অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে। দরিদ্র, ভূমিহীন, প্রান্তিক চাষীদের আয় বৃদ্ধি ও স্বকর্ম সংস্থানের লক্ষ্যে মৌচাষ স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা লাভের অন্যতম সফল একটি কর্মসূচি হতে পারে। ‘কীটনাশকের কারণে বিশ্বে মৌমাছির সংখ্যা দ্রুত কমছে। ফলে হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে আগামী দিনের কৃষি উত্পাদন। কীটনাশকের কারণে মৌমাছির মড়ক কৃষির জন্য অশনিসংকেত। কারণ বিশ্বজুড়ে ৩০ শতাংশ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায় মৌমাছি।’ কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আলহাজ্ব মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, মধুর রয়েছে প্রচুর খাদ্যগুণ। উপাদেয় ও ঔষধি গুণসম্পন্ন মধু দিয়ে মানবের উপকার করা ছাড়াও মৌমাছি পরাগায়নে সহায়তা করে বিভিন্ন শস্য, ফলমূল ও শাক-সবজি উত্পাদন বৃদ্ধিতে প্রভূত অবদান রাখে।