মুক্ত জলাশয়ে মাছের নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে খ্যাত চলনবিল এখন মাছের বিচরণ ক্ষেত্র হুমকিস্বরূপ। চলনবিলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবার পরই যমুনা নদী থেকে বোয়াল, টেংরা, পুঁটি, পাবদা, বাতাসী, বাইম, গোচই এমনকি শিং-মাগুরসহ এসব মা মাছ ডিম ছাড়ার নিরাপদ আশ্রয়স্থল চলনবিলে প্রবেশ করে। কিন্তু মত্স্য নিধনকারীদের শিকারে পরিণত হচ্ছে এসব ডিম ভরতি মা মাছ।
দীর্ঘ খরার পর আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহেই যমুনা নদীর জোয়ারের পানি বিলের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করে। এতে শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ও পোতাজিয়া ইউনিয়ন, উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর, উধুনিয়া, পাঙ্গাসী ইউনিয়ন, ফরিদপুর উপজেলার হাদোল, ব্রিলাহিড়ী বাড়ি, ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাসার ও খান মরিজ ইউনিয়ন, চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা, হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া ও সাইকোলা ইউনিয়ন, তাড়াশ উপজেলার সগুনা ও মাগুরা বিনোদ ইউনিয়ন, গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়ন, সিঙড়া উপজেলার ডাহিয়া, ইটালী ও চৌগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষেত খামার প্লাবিত হয়। বিপুল পরিমাণ মা মাছ এসব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এ সুযোগে মাছ শিকারীরা কারেন্ট জাল, বাদাই জাল, সূতি জাল ও বানা পুঁতে এসব মা মাছ শিকার করে।
১৯৮২ সাল পর্যন্ত চলনবিলের গাড়ি পুকুর থেকে প্রচুর পরিমাণ মা মাছ চলনবিলের বন্যার পানির মুক্ত জলাশয়ে রেণু পোনা ছড়িয়ে দিত। পুকুরের জন্য বিখ্যাত তাড়াশ ও চাটমোহর উপজেলার অধিকাংশ গাড়ি পুকুর মত্স্য বিভাগ থেকে সংস্কার করে আধুনিক মাছ চাষ শুরু করে। এতে বন্ধ হয়ে যায় মা মাছের বসবাসের স্থান। অন্য উপজেলার বিলাঞ্চলের পুকুর-জলাশয়গুলোও একই অবস্থায় প্রশাসন থেকে লীজ দেয়ায় দেশি মাছের বসবাসের স্থান সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ৮২ সালে পদ্মার শাখা নদী চারঘাটে বড়ালের উত্সমুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। যার ফলে অদ্যাবধি পদ্মা নদীর রেণু পোনা আর চলনবিলে প্রবেশ করে না।
বিলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুক্ত জলাশয় প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচে মাছ ধরায় চলনবিলে দেশি মা ক্রমশ শূন্যের কোঠায় পৌঁছে যায়। একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় যমুনা নদী। কিন্তু চলনবিলের প্রতিটি উপজেলায় বন্যার পানি বিলে প্রবেশের পরই প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় মাছ শিকারীরা চলনবিলকে এখন মাছের জন্য হুমকিস্বরূপ করে তুলছে।
