সুচিত্রা সেনের বাড়ি অবশেষে দখলমুক্ত

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৫
অবশেষে দীর্ঘ ২৭ বছর পর অবৈধ দখলমুক্ত হলো বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়িকা সুচিত্রা সেনের পাবনার আলোচিত পৈত্রিক বাড়িটি। উচ্চ আদালতের আদেশানুযায়ী গতকাল বুধবার দখলদার ইমাম গাজ্জালি ইনস্টিটিউটকে অপসারণ করে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। এর আগে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাবনার জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন। জানা গেছে, ১৯৮৭ সালে বাড়িটি জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টকে স্বল্প মেয়াদী লীজ প্রদান করা হয়। ২০০৯ সালের ১২ জুন পাবনার তত্কালীন জেলা প্রশাসক ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টকে উচ্ছেদের নোটিস দেন। ওই বছরের ২২ জুন এ নোটিসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ট্রাস্ট। ২০১১ সালে এ রিট খারিজ এবং বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা স্থাপনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট। আপিল বিভাগও বাড়িটি দখলমুক্ত করে সেখানে সুচিত্রা সেনের স্মৃতির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ কেন্দ্র করার নির্দেশ দেয়। বাড়িটি মুক্ত করার জন্য গত ১০ বছর ধরে পাবনার সকল স্তরের মানুষ আন্দোলন করছিল। সুচিত্রা সেন স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. রামদুলাল ভৌমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আদালতের রায় বাস্তবায়ন হওয়ায় পাবনাবাসীর অনেক দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী গণেশ দাস বলেন, সুচিত্রা সেন আমাদের গর্ব, তার পৈতৃক বাড়িটি মুক্ত হওয়ায় আমরা খুশি। এদিকে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের সেক্রেটারি আবিদ হাসান দুলাল জানান, আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আমরা গতকাল স্কুলটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি। প্রসঙ্গত, ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে সুচিত্রার বাবা পাবনা পৌরসভার সেনেটারি ইন্সপেক্টর করুণাময় দাশ গুপ্ত পাবনা থেকে কলকাতা চলে যান। তখন সুচিত্রার নাম ছিল কৃষ্ণা গুপ্তা। পরে সিনেমায় তার নামকরণ করা হয় সুচিত্রা সেন। এর পর থেকে বাড়িটি ছিল পাবনা জেলা প্রশাসনের অধীনে।