আজ ১৮ রমজান। মাহে রমজানে সিয়াম পালন করার বিধান আল্লাহ্ জাল্লা শানুহু প্রদান করেছেন। এই সিয়াম ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম। সিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্যপালনীয় ইবাদত। সিয়াম পালনের মাধ্যমে সায়িম পাপমুক্ত জীবনের অধিকারী হতে পারে। সিয়াম সায়িমের ভেতরকার সমস্ত দুষ্টচক্র দমন করে এর রিপুর তাড়নাকে দূর করে দেয়। সিয়াম পালনকারী যেমন সায়িম বলা হয়েছে তেমনি একে সায়িহ-ও বলা হয়েছে। সায়িহ্ শব্দের অর্থ রূহানী পথের পথিক। ইলেম তাসাওউফে দাররায়ে হকীকতে সওম নামে একটি মুরাকাবা অধ্যায় রয়েছে। যোগ্য পীরের তত্ত্বাবধানে এটার তা’লীম গ্রহণ করার মাধ্যমে সিয়ামের মূলতত্ত্ব অবলোকন করা যায় এবং সিয়ামের যে নূর বা জ্যোতি রয়েছে তা দেখা যায়।
আমরা সূরা ইখলাসে পড়ি: বলো, তিনিই আল্লাহ্ এক-অদ্বিতীয়, আল্লাহ্ কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। এখানে আল্লাহ্র গুণবাচক নাম আস্সামাদের সৌকর্য শোভা প্রস্ফুটিত হয়েছে। দায়রায়ে হকীকতে সওমের মুরাকাবায় আল্লাহুস্ সামাদ-এর দিকে অনুধ্যান করতে হয়। এই অনুধ্যান অবস্থায় আল্লাহ জাল্লা শানুহুর সামাদিয়াত গুনের ফয়েয সায়িমের উপর আসতে থাকে। ফলে সে পরিপূর্ণতার বৈভবে বিভাসিত হয়।
সিয়ামকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হিওয়া সাল্লাম ঢাল অভিধায় অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন; আস্ সিয়ামু জুন্নাতুন, ফালা ইয়ারফুস্ ওয়ালা ইয়াজহাল্ ওয়া ইন্ আমরূউন ফা আতালাহু আও শাতামাহু ফালইয়াকুল্ ইন্নী সায়িমুন মার্রাতায়ন- সিয়াম হচ্ছে ঢাল। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মতো কাজ করবে না। যদি কেউ ঝগড়া করতে আসে কিংবা গালি দেয় তাহলে দুইবার বলবে আমি সায়িম। (বুখারী শরীফ)।
যুগশ্রেষ্ঠ সূফী হযরত মওলানা শাহ্ সূফী আলহাজ্ব তোয়াজউদ্দীন আহ্মদ রহমাতুল্লাহি ‘আলায়হি বলেছেন: রোজা কেবল খাওয়া-দাওয়া ও স্ত্রী গমন থেকে বিরত থাকাই নয় বরং খাওয়া-দাওয়া ও স্ত্রী গমন ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোকেও গোনাহ্ হতে রক্ষা করতে হবে। হাদীস শরীফে আছেঃ সায়িমের নিদ্রা ‘ইবাদত, চুপ থাকা তস্বীহ পাঠ। সায়িমের দু’আ কবুল হয়।
