বিটিআরসির কলরেট কমানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে নাকচ

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৩
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিকবার নাকচ করে দেয়া প্রস্তাব পাস করাতে এবার তদ্বিরে নেমেছেন সরকারের প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী। এর বাইরে আরো কয়েকজন নেতাও আছেন। ওই দুই মন্ত্রী এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তদ্বির নিয়ে গেছেন। প্রস্তাবটি পাস হলে সরকারের বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলে প্রস্তাবকারী সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) তাদের প্রথম প্রস্তাবে স্বীকারও করেছিল। কিন্তু একটি বিশেষ মহলের স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে দ্বিতীয় দফার প্রস্তাবে নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছে বিটিআরসি। দ্বিতীয় প্রস্তাবে কিছু তথ্য বদলে দিয়ে ক্ষতির পরিবর্তে উল্টো আরো বেশি লাভের কথা বলেছে কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে তারা ভুল তথ্যও দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল টার্মিনেশন রেট প্রতি মিনিট বর্তমানে তিন সেন্ট রয়েছে। এটিকে দেড় সেন্টে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে অনেক দিন থেকে। কিন্তু এটি করলে সরকারের হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হবে বলেই অর্থ মন্ত্রণালয় দুই বার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তারপরেও এই রেট কমাতে নানা দিকের তদ্বির চলছে। আর এবার সেটি একেবারে সরকারের প্রধান নির্বাহী প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছে গেল। গত ৭ জুলাই সরকারের নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রস্তাবটি পাসের সুপারিশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে ওই দুই মন্ত্রী বলেন, টেলিফোনের ইন্টারন্যাশনাল কল টার্মিনেশন রেট কমালে অবৈধ ভিওআইপির চাহিদা কমে যাবে। এতে অবৈধ ব্যবসায়ীরা নিরুত্সাহী হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় কেন বারবার নাকচ করছে তাও নাকি তাদের বোধগম্য নয়। আর প্রধানমন্ত্রীও তাদের বলেছেন, যদি দেশের ভালো হয় তাহলে সেটিই করা দরকার? তবে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন বলেও তাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকের পর ১০ দিন পার হলেও প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে কোন নির্দেশনা আসেনি। ফলে বিটিআরসিও এখন চুপ করে আছে। তারা বলছে, তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশনার অপেক্ষায়। বর্তমানে প্রতি মিনিটের বৈদেশিক কলের সঙ্গে তিন মার্কিন সেন্ট (দুই টাকা ৩২ পয়সা) করে দেশে আসে। যার ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় সরকার। আর বাকিটা আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটর, আন্তঃসংযোগ অপারেটর এবং যে অপারেটর ফোনটি রিসিভ করে তাদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। বর্তমানে দিনে বৈধ পথেই কল আসে প্রায় ছয় কোটি মিনিট। অবৈধ পথে আরো কয়েক কোটি মিনিট কল আসে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অথচ বিটিআরসি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলেছে, দেশে বর্তমানে বৈধ কল আসে সাড়ে ৩ কোটি মিনিট। এর আগে প্রথম দফা কল টার্মিনেশন রেট তিন সেন্ট থেকে দেড় সেন্টে নামিয়ে আনতে বিটিআরসি যখন প্রস্তাব পাঠায় তখনই তারা স্বীকার করেছিল এতে সরকারের ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে। পরে গত মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় সেটি প্রত্যাখ্যান করলে মে মাসে আবারো একই প্রস্তাব পাঠায় বিটিআরসি। এবার অবশ্য কিছু তথ্য এদিক-ওদিক করে তারা বলে, এতে সরকারের দুইশ’ কোটি টাকা লাভ হবে! কিন্তু এবারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, সরকারের ক্ষতি হলে সে সিদ্ধান্ত তারা কেন নেবেন? অর্থ মন্ত্রণালয়ে দ্বিতীয় দফা নাকচ হওয়ার পরই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় লাইসেন্স পাওয়া প্রভাবশালীরা সোচ্চার হয়ে ওঠেন। তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই দুই মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তদ্বির নিয়ে গেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।