জন্ম নিয়ন্ত্রণ করবে মাইক্রোচিপ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ১৯:৩৫
প্রযুক্তির ব্যবহার কত বিচিত্রভাবেই না ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিত্সা, বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই এখন প্রযুক্তির জয়জয়কার। এবারে পরিবার পরিকল্পনাতেও যুক্ত হলো প্রযুক্তির ছোঁয়া। হ্যাঁ, জনসংখ্যা এখনও পর্যন্ত বিশ্বের অনেক দেশের জন্যই বড় একটি সমস্যা। এসকল দেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তবে তারপরেও সাফল্য লাভ করতে ব্যর্থ হয়েছে অনেক দেশই। মার্কিন এক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ উদ্যোগ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবার পরিকল্পনায় নিয়ে আসতে পারে সাফল্য। তারা তৈরি করেছে বিশেষ একটি চিপ, যা স্থাপন করা যাবে শরীরের অভ্যন্তরে। আর এরপর এই চিপই জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটের লেক্সিংটনে অবস্থিত এই কোম্পানির নাম মাইক্রোচিপস। ২০ মিলিমিটার বাই ২০ মিলিমিটার বাই ৭ মিলিমিটার আকৃতির যে বিশেষ চিপ তারা তৈরি করেছে, সেটি মূলত কাজ করবে একটি হরমোন আধার হিসেবে। ১৬ বছর ধরে কর্মক্ষম থাকবে এই চিপ। সেই হিসেবে বলতে গেলে একজন নারীর প্রজনন কালের অর্ধেক সময় ধরেই সেবা প্রদান করতে পারবে এই একটি চিপ। এই চিপ থেকেই প্রতিদিন ৩০ মাইক্রোগ্রাম লেভোনোরজেস্ট্রেল নিঃসরণ করতে পারে, যা মূলত জরুরি জন্ম নিরোধক হিসেবে কাজ করে থাকে। তবে এই চিপ ব্যবহার করা অবস্থাতেও কোনো দম্পতি সন্তান ধারণ করতে পারবে। এই চিপকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে চালু ও বন্ধ রাখার সুবিধার কারণেই তা সম্ভব। ফলে সন্তান ধারণ করতে চাইলে এই চিপকে বন্ধ করে রাখলেই সেটি জন্ম নিরোধক হরমোন নিঃসরণ বন্ধ রাখবে। সুবিধাজনক সময়ে চিপকে চালু করে দিলেই তা জন্ম নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে। এই চিপের অভ্যন্তরে ১.৫ সেন্টিমিটার চওড়া একটি জায়গার মধ্যে সংরক্ষিত থাকে লেভোনোরজেস্ট্রেল হরমোন। এর উপরিভাগে থাকে অত্যন্ত পাতলা একটি আবরণ। সামান্য ইলেক্ট্রিক চার্জেই গলে যায় এই আবরণ। আর তাতে করেই প্রতিদিন ৩০ মাইক্রোগ্রাম করে লেভোনোরজেস্ট্রেল নিঃসৃত হয় শরীরে। শুধু লেভোনোরজেস্ট্রেলই নয়, এই চিপের মাধ্যমে অন্যান্য হরমোন বা ঔষধও সংরক্ষণ করা যাবে এবং চিকিত্সায় এর বৈচিত্র্যময় ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মাইক্রোচিপসের এই প্রকল্পকে অর্থায়ন করছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের ফ্যামিলি প্ল্যানিং প্রোগ্রাম। মাইক্রোচিপস আশা করছে, আগামী বছরেই পরীক্ষামূলকভাবে এই চিপ ব্যবহার শুরু করা যাবে। আর ২০১৮ সাল থেকেই বাণিজ্যিকভাবে একে বাজারে নিয়ে আসতে আশাবাদী তারা। বিশ্বব্যাপী জন্ম নিয়ন্ত্রণে নতুন এক যুগ নিয়ে আসবে এই চিপ, এমনটিই আশা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।  ইমদাদুল হক