গল্প নয় সত্যি

জার্মানি জেতায়...

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৪
বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন সময়ের কথা। বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো সিঙ্গাপুরেও বিভিন্ন দল নিয়ে বাজি ধরার প্রবণতা চরম আকার ধারণ করেছিল। আর মানুষ যেন তাদের প্রিয় দল বা খেলোয়াড়দের নিয়ে এভাবে বাজি ধরে তাদের সর্বস্ব খুইয়ে না ফেলে সেজন্যই খেলা নিয়ে বাজি ধরা রোধে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অন প্রবলেম গ্যাম্বলিং’ নামের একটি সংস্থা। মূলত বিশ্বকাপের মাঝামাঝি সময়ে সংস্থাটির প্রকাশিতএকটি পোস্টার ও বিজ্ঞাপনে দেখা যায় দু’টি কম বয়সী শিশু পাশাপাশি বসে আছে এবং তাদের একজন অন্যজনকে বলছে যে, ‘আমি আশা করি জার্মানি জিতবে। কারণ আমার বাবা আমার সমস্ত সঞ্চয়টুকু তাদের জন্য বাজি ধরতে খরচ করেছে।’ প্রথমদিকে এই পোস্টারটিআর দশটি সচেতনতামূলক পোস্টারের মতোই সবার নজরকাড়ে। তবে পোস্টারটি নিয়ে মূল বিপত্তি বাধে জার্মানি সেমিফাইনালে উঠে যাওয়ার পর। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর অনেকেই পোস্টারের বার্তাটিকে ভিন্নভাবে নিতে শুরু করেন। আর সবশেষে জার্মানি যখন ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় তখন পোস্টারের বিষয়টিই পাল্টাতে বাধ্য হয় ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অন প্রবলেম গ্যাম্বলিং’। বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে যেয়ে সংস্থাটির একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মানুষ যখন আবিস্কার করবে যে কোনো একটি দল বিশেষ করে পোস্টারে উল্লেখ করা জার্মানির পক্ষে যারা বাজি ধরেছিল তারা নিঃস্ব হবার পরিবর্তে উল্টো লাভবান হয়েছে, তখন সামগ্রিকভাবে বাজি ধরার বিষয়টিও তাদের কাছে লাভজনক বলে মনে হবে। আর এ বিষয়টি টের পাবার পরই বিজ্ঞাপনের ভাষা পাল্টে দেয় সংস্থাটি। নতুন করে প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায় আগের দু’টি শিশুর একজন এবার অন্যজনের কাছে জানতে চাইছে যে ‘তার বাবার সমর্থন করা জার্মানি জিতে যাবার পর সে তার সঞ্চয় ফিরে পেয়েছে কিনা?’ কিন্তু এ প্রশ্নের জবাবে শিশুটি জানায় যে, ‘তার বাবা কখনো থামতে চায় না এবং সে নতুন করে আরও একবার বাজি ধরতে চায়।’ মূলত এবারের এই বার্তার মধ্য দিয়ে এ ধরনের বাজির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান লোভের চিত্রটিই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অন প্রবলেম গ্যাম্বলিং’। এ ছাড়া বিজ্ঞাপনটির চলতিসংস্করণে মূল চরিত্রটির বাবা নতুন করে কোন দলটির ওপর বাজি ধরতে চাইছেন সেটিও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।