রাখাইন রাজ্যে নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে যুদ্ধাপরাধ করছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার গ্রুপ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপটির এক প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, বিনাবিচারে আটকের অভিযোগ তোলা হয়েছে। নৃ-তাত্ত্বিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অধিকার আদায়ে লড়াইরত এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সেনাবাহিনী এসব অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। সংঘাত কবলিত এলাকা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষের সাক্ষাত্কার এবং ছবি, ভিডিওচিত্র ও স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি। তবে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অভিযোগের মতো এ অভিযোগও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
জাতিগত সংঘাত ও দারিদ্র্য-জর্জরিত রাখাইনে কেবল রোহিঙ্গারাই একমাত্র নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠী নয়। রাখাইন বৌদ্ধরাসহ (আরাকান জাতিভুক্ত) সেখানকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিপীড়নের শিকার হয়। কেবল রোহিঙ্গা ছাড়া বাদবাকি সব জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতির প্রশ্নকে সামনে রেখে রাখাইন রাজ্যে নিজেদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে আরাকান আর্মি। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে এই সরব ভূমিকা বিশেষত রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হয়েছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী সেনা অভিযানের পর চলতি বছরের শুরুতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা জোরালো করে আরাকান আর্মি। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে আরাকান আর্মিবিরোধী অভিযান জোরালো করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর নির্বিচার হামলায় রাখাইনের বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছে। অ্যামনেস্টির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক পরিচালক নিকোলাস বেকুলিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক তত্পরতার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আবারো রাখাইন রাজ্যে নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নিপীড়ন চালাচ্ছে’। তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে নতুন অভিযান স্পষ্ট করেছে যে একটি অনুতাপ ও সংস্কারহীন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের ওপর কীভাবে সন্ত্রাস চালাচ্ছে আর বিভিন্ন কৌশলে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটাচ্ছে’।
