বেনাপোলে শুরু হয়েছে এলাচ চাষ। বীজ থেকে নয় মূল থেকেই জন্ম নেয় এলাচ গাছ। শাজাহান আলী নামে একজন সৌখিন চাষি ইন্টারনেট থেকে চাষাবাদের তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশ থেকে এলাচ গাছের মূল সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন ২০১১ সালের মে মাসে। চলতি বছরের মে মাস থেকে ফলন দেখা দিয়েছে তার প্রতিটি গাছে।
সমপ্রতি বগুড়ার কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট এর মসলা গবেষণা কেন্দ্রের একদল বিজ্ঞানী আসেন শাজাহানের এলাচ গাছ দেখতে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তারা নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান বাগান থেকে। মসলার কাজে ব্যবহূত এলাচ উত্পাদন করতে এ পর্যন্ত শাজাহানের খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা। দুই জাতের এলাচ উত্পাদন হয়েছে তার জমিতে। এক ধরনের জাত মাটিতে কান্ডের সাথে ফলন হচ্ছে, আর এক ধরনের জাতের ফলন হচ্ছে গাছের মাথায়। গাছ থেকে এলাচ সংগ্রহ করে ৮/১০ দিন শুকানোর পর বাজারের এলাচের ন্যায় সুগন্ধি পাওয়া যাচ্ছে এই এলাচে। রান্নার মসলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এখানকার উত্পাদিত এলাচ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার জানান, বাণিজ্যিকভাবে এলাচ চাষ দেশে এই প্রথম। আরো গবেষণা করে এই জাতীয় মসলার চাষ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমাদের আমদানি নির্ভরতা অনেক কমে যাবে। তিনি আরো জানান, এলাচ চাষ নিয়ে মসলা গবেষণা কেন্দ্র দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করে আসছে। এখানকার এলাচ একটি ভিন্ন ধরনের জাত, এর নমুনা নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।
এদিকে এলাচ চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ বৃদ্ধি করে দেশের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব বলে মনে করছেন বেনাপোলের চাষিরা।
