বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, অত্যাচার-দু:শাসনে দেশের প্রতিটি মানুষ আজ ক্ষতিগ্রস্ত। বিনিয়োগহীনতা, দ্রারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে সমাজে সৃষ্টি হয়েছে চরম হতাশা। এই অবস্থা দূর করা দরকার। এজন্য প্রয়োজন একটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকার। কারণ অনির্বাচিত-অগণতান্ত্রিক সরকার দিয়ে কখনও দেশ চলতে পারে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে আসন্ন রোজার ঈদের পর আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। ইফতার শেষে খালেদা জিয়া জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে চা-চক্রে আড্ডা দেন।
ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের কোনো মানুষ আজ ভালো নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপরও আক্রমণ চালিয়েছে। গায়ের জোরে চেপে বসে থাকা অবৈধ সরকার সর্বত্র তাদের দলীয় লোকদের নিয়োগ-পদোন্নতি দিচ্ছে। সেখানে মেধার কোনো বালাই নেই। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন ও নিজেদের মৌলিক-সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের জন্যই আমরা ঈদের পর আন্দোলন গড়ে তুলবো। যুদ্ধ নয়, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবো।
তিনি বলেন, এ সরকার সবার মুখ বন্ধ করে রেখেছে। কেউ কথা বলতে পারে না, সত্য বলতে পারে না। কথা বললেই মামলা দিয়ে জেলে নেয়া হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে পারে না। এজন্য নির্বাচিত সরকার এখন খুব জরুরি দরকার। বিদেশিরা বলেছে পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনসহ এ সরকারের আমলে হওয়া সব নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ।
বিএনপি চেয়ারপারসন আরও বলেন, ঢাকায় তীব্র যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। ঢাকা এখন একটি নোংরা শহরে পরিণত হয়েছে। সরকার শুধু বলছে-তারা নাকি ভালো কাজ করছে। অথচ মহাসড়কগুলোর কী দুরাবস্থা! সেখানে কোনো কাজ হয়নি। কোথায় সরকার? দুর্নীতি ছাড়া তারা কোনো কাজ করতে পারে না।
ইফতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আব্দুস সালাম অংশ নেন। এছাড়াও অংশ নেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ ও মহাসচিব এমএ আজিজ, ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি কবি আব্দুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি আব্দুস শহীদ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ।
