ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়াধীন ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর’-এ সংগঠিত একগুচ্ছ অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে গৃহীত ‘মুজিব কিল্লাহ’ প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পিতভাবে ৭-৮ মাস বিলম্ব করানো এবং এই প্রকল্পে ডিপিপি লংঘন করে লোকবল নিয়োগ, গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণ (এইচবিবি) প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার রাস্তায় ইট বিছাতে এক বছরের ব্যবধানে ২৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত উপ-কমিটি। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে দুদককে চিঠি পাঠানো হবে উপ-কমিটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরেও অধিদপ্তরের কেউ কেউ লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের অক্টোবরে ‘মুজিব কিল্লাহ’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়ে প্রকল্পে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের জন্য বললেও অজানা কারণে তখন লোকবল নিয়োগ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর নামে গৃহীত প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তত্কালীন মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রকল্পে লোকবল নিয়োগের অন্য পরের মাসে, অর্থাত্ নভেম্বরেই প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে দেন। তখন সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা প্রশ্ন তোলেন- ৩ জনের জায়গায় মন্ত্রী মায়া ১০ জনকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন, এতে ডিপিপি লংঘিত হবে। কিন্তু সম্প্রতি এই প্রকল্পে ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংসদীয় উপ-কমিটি প্রশ্ন তুলেছে, বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে ডিপিপি লংঘিত হবে বলে প্রকল্পে লোকবল নিয়োগ করা হয়নি, তাহলে এখন কীভাবে এবং কিসের ভিত্তিতে ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলো?
অনেকে দক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও নানা কারণে ‘মুজিব কিল্লাহ’ প্রকল্পে নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে উপ-কমিটি। তাছাড়া যেখানে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সংকট, সেখানে পিআইওদের মাঠ থেকে তুলে এনে মুজিব কিল্লাহ প্রকল্পে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আয়েশা সিদ্দিকা অভিযোগ করেছেন, মুজিব কিল্লাহ প্রকল্পে আগের মন্ত্রী তার নাম প্রস্তাব করার কারণে গত ছয় মাসে তাকে তিনবার হয়রানিমূলক বদলি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মীর হাশিম জানিয়েছেন, প্রকল্পে কিছু লোক নিয়োগ হয়েছে, কিছু এখনো বাকি আছে। কেউ কেউ নিয়োগ না পেয়ে সংক্ষুব্ধ হতে পারেন।
এদিকে উপ-কমিটির তদন্তে উঠে এসেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণ (এইচবিবি) প্রকল্পে প্রথম দরপত্রে প্রতি কিলোমিটার রাস্তায় ইট বিছাতে ব্যয় ধরা হয় ৩৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় দরপত্রেই সেটি একলাফে বেড়ে হয় ৪৩ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতি কিলোমিটারের ব্যয় দেখানো হচ্ছে ৫৭ থেকে ৫৮ লাখ টাকা। যার মানে ৩৪ লাখ টাকার কাজে এখন খরচ দেখানো হচ্ছে ৫৮ লাখ টাকা, যা ২৩ লাখ টাকা বেশি। প্রশ্ন উঠেছে, ৯/১০ টাকার ইট হঠাত্ বেড়ে ২৩ টাকা হয়ে গেল কীভাবে?
