ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

চার লেন নির্মাণে সময় ও ব্যয় বাড়ছে

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৪৯
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ শেষ হবার কথা। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যাবে না। এজন্য প্রকল্পের মেয়াদ আরো অন্তত: একবছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, মেয়াদ বাড়ানোর সাথে সাথে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হবে। ব্যয় কত বাড়বে তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে এ প্রকল্পের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান। বর্তমানে তিনি ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আফতাব হোসেন খানকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় ২০১২ সালের জুন মাসে। কিন্তু এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাকে এ পদ থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এখন ইবনে হাসান আলম এ দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা বলার জন্য গত দু’দিন ধরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান তার সহকারী। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবার কথা ছিলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন প্রকল্প। এর মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে চারবার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মোট ১০টি প্যাকেজে এ প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাতটি প্যাকেজের কাজ পেয়েছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো। চুক্তির অংশ হিসেবে তারা তিনটি ব্রিজ, ৩৩ মিটার আন্ডারপাস, ৩৩টি স্টিল ফুটওভার ব্রিজ, ৬১টি বাস স্টপেজ এর কাজ শুরুই করতে পারেনি। কোম্পানিটি কুমিরা এবং পন্থিছিলা অংশে ১৮ কিলোমিটারের একটু বেশি অংশের কাজ শেষ করেছে। এছাড়া পন্থিছিলা থেকে মিরসরাই পর্যন্ত আরো ২০ কিলোমিটার অংশের কাজও শেষ করেছে তারা। তবে দেশীয় কোম্পানি রেজা কন্সট্রাকশন এবং তাহের ব্রাদার্স তাদের কাজের ৬০ শতাংশ শেষ করেছে। ফেনী থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত অংশে সিনোহাইড্রো কোন কোন জায়গায় পাইলিং-এর কাজও শুরু করতে পারেনি। ২০০৬ সালে মোট দুই হাজার ৩৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয় তিন হাজার ১৯০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হাবার কথা থাকলেও সময়সীমা বাড়িয়ে তা ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নেয়া হয়। মহাসড়কে জনদুর্ভোগ লাঘবে নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন যোগাযোগ মন্ত্রী। প্রতিদিনই তিনি বিভিন্ন মহাসড়কে ঘুরে ঘুরে কাজের তদারকি করছেন। তিনি যে মহাসড়ক পরিদর্শন করেন সেদিন ওই মহাসড়কে যানজট থাকে না। কিন্তু এরপর অবস্থা আবার অগের মতো রূপ নেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি গিয়েছিলেন আশুলিয়া-বাইপাইল মহাসড়ক পরিদর্শনে। এই মহাসড়কের মেরামত কাজের দায়িত্বে অবহেলার জন্য তিনি প্রকৌশলী আহসান উল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। তিনি প্রকৌশলী সবুজকে এ কাজ তদারকি করার দায়িত্ব দেন।