জনপ্রশাসনে আট মাস ঝুলে থাকার পর খুলছে উপসচিব পদে পদোন্নতির জট। একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সচিব থেকে সচিব হচ্ছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। মূলত: ২০ তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের উপসচিব করার লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভা বসে। গত নভেম্বর মাসে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত এসএসবির সভায় ২০ তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের উপসচিব করার বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
ইতিমধ্যে আট মাস কেটে গেলেও পদোন্নতির দেখা পাননি পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তারা। এসএসবির বৈঠকে পদোন্নতির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত থেমে যায় নানা কারণে। এর মধ্যে প্রধানতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার মত একটি পদও খালি নেই। অন্যদিকে সচিবালয়সহ জেলা প্রশাসন এমনকি উপজেলা প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিবের সংকট তৈরি হবে বলে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। যদিও অতিরিক্ত সচিব এবং যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়ার সময় পদশূন্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়নি।
পদোন্নতি প্রত্যাশীদের বক্তব্য এসএসবির বৈঠকে চূড়ান্ত হওয়ার পরেও নাম ঘোষণা না করে আট মাস ঝুলিয়ে রাখা নজিরবিহীন ঘটনা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি পাওয়া একজন কর্মকর্তার চাকরির অধিকার। তবে পদোন্নতি দেয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কাঠামোর দিকে যেমন লক্ষ্য রাখতে হয় তেমনি সার্বিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিতে হয়। তারা বলছেন, ইতিপূর্বে যারা সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপসচিব হয়েছেন তারা ১৮ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত চাকরিকাল অতিক্রম করেছেন। সেদিক বিবেচনায় ২০ তম ব্যাচের চাকরিকাল ১৪ বছর হয়েছে।
প্রসঙ্গত: চাকরিতে নিয়মিত হওয়ার পর ১০ বছর অতিক্রম করলেই সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপ-সচিব হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করা যায়। পদোন্নতির ক্ষেত্রে অবশ্য নীতিমালা অনুযায়ী সমগ্র চাকরিকালের বাস্তব উপযুক্ততা বিবেচনা ছাড়াও নির্ধারিত কিছু মাপকাঠি বিবেচনা করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূঞার সভাপতিত্বে গতকাল এসএসবির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
