কাপ্তাইয়ে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৪
কাপ্তাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা হঠাত্ বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার দুর্গম হরিণছড়া ও বারুদগোলা মৌজাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ম্যালেরিয়া রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক ম্যালেরিয়া রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন বলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতাল সূত্র জানায়- ২০১৩ সালে ৭৫ জন ম্যালেরিয়া রোগী সনাক্ত করে চিকিত্সা দেয়া হয়। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১১২ জন ম্যালেরিয়া রোগী সনাক্ত করা হয়। হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে ম্যালেরিয়া রোগীর এই বৃদ্ধিকে আশঙ্কাজনক বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। উপজেলায় ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেন খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিজয় মারমা। তিনি ম্যালেরিয়া কবলিত হরিণছড়া, রাঙ্গামুড়া পাড়া, ম্রৌ পাড়া, বেচারাম পাড়া, নতুন পাড়া, লামা পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বলে জানান। মানুষ কিভাবে ম্যালেরিয়া থেকে রক্ষা পাবে সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করারও চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার হেডম্যান, কারবারী, পাড়া প্রধান ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ম্যালেরিয়া রোগী বৃদ্ধির কথা স্বীকার করেন। ম্যালেরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সরকারের অর্জিত এমডিজি স্বাস্থ্য সাফল্য বাধাগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কা করা হয়। ম্যালেরিয়া রোগীর বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানা গেছে এবছর পাহাড়ী এলাকায় প্রচণ্ড উষ্ণ আবহাওয়া ছিল। গরমের জ্বালায় মানুষ মশারি ব্যবহার ছেড়ে দেয়। আবার পাহাড়ে জুম চাষীরাও মশারি ব্যবহার করেনি। যে কারণে ম্যালেরিয়াবাহী মশার কামড়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ব্র্যাক ও চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে ম্যালেরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও স্থানীয়রা মনে করেন। চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এম স্টিফেন চৌধুরী বলেন সরকারের অর্জিত এমডিজি স্বাস্থ্য সাফল্য ধরে রাখতে হলে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। অন্যথায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার বাড়তে পারে। এজন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।