চরফ্যাশনে পানিবন্দী লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৪, ২২:২৩
চরফ্যাশনের লক্ষাধিক মানুষ গত ছয়দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। সাড়ে চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঠিক সময়ে না হওয়ায় এ অবস্থা। গতকাল সরেজমিনে চরফ্যাশনের ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাজ ও হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের দুর্যোগ কবলিতদের সঙ্গে আলাপের সময় তারা আক্ষেপ করে বলেন, দুর্যোগের ছয় দিন পরও আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পাইনি। শুনেছি সরকার থেকে নগদ টাকা ও চাল দেয়া হয়েছে, সে টাকা ও চাল কিছুই আমাদের ভাগ্যে জোটেনি। চেয়ারম্যান-মেম্বাররা মুখ দেখে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিপর্যয়ের জন্য গ্রামবাসীর ক্ষোভ সরকারি দলের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ওপর। সরকার দলীয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সঠিক সময়ে বেড়িবাঁধ না হওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করেছেন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কায়সার আলম জানান, এ জন্য স্থানীয়রাও কম দায়ী নয়। স্থানীয় জমির মালিকদের বাধার কারণেই সঠিক সময়ে বাঁধ পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা যায়নি। এই বাঁধের কারণে চরফ্যাশনের পাঁচটি ইউনিয়নের ২৫ গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এই গ্রামগুলোতে বসবাস লক্ষাধিক মানুষের। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে আছে মানুষের বসত ভিটা, ফসলি জমি। পানির তোড়ে ভেসে গেছে ঘেরের মাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা-ঘাট। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে আছে। নলকূপ পানির নিচে তলিয়ে থাকায় লোকজন বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না। এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। বেতাগীতে ভেঙ্গে গেছে রাস্তাঘাট বেতাগী (বরগুনা) সংবাদদাতা : মৌসুমি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ, পাকা সড়ক ও কাঁচা রাস্তাঘাট পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পৌর এলাকার সদর রোড, ষ্টেশন রোড, কালি বাড়ি সড়ক, খাড়া কান্দার আবের আলী মল্লিক সড়ক, মুরগীর বাজার সড়ক, হাইস্কুল সড়ক, হাসপাতাল বেড়িবাঁধ সড়ক, পৌর ভবন সংলগ্ন বেড়িবাঁধ সড়ক, উত্তর বেতাগী রাস্তা, দক্ষিণ বেতাগী সড়ক, পশু হাসপাতাল সড়ক, গোডাউন সড়ক, সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুরা-বেতাগী সড়ক, বেতাগী-কেওয়াবুনিয়া-ঝোপখালী সড়ক, ভোলানাথপুর সড়ক, হোসনাবাদের জলিশা-বেতাগী সড়ক, জলিশা বাজার সড়ক, মোকামিয়া লঞ্চ ঘাট সড়ক, বুড়ামজুমদারের বদনীখালী-কাউনিয়া বাজার সড়ক, কাজিরাবাদের চান্দখালী বাজার সড়ক, সরিষামুড়ির কাজিরাবাদ সড়ক এবং বেতাগী শহর রক্ষা বাঁধ, উত্তর বেতাগী রক্ষা বাঁধ ও বেড়িবাঁধ, গাবতলী বেড়িবাঁধ, আলীয়াবাদ বেড়িবাঁধ, নাপিত খালী, বেতমোড় বেড়িবাঁধ, চর ছোপখালীর বেড়িবাঁধ ও গড়িয়াবুনিয়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্রে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে সড়কের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেতাগী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও রাস্তা-ঘাট সংস্কারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শিবালয়ে যমুনার ভাঙ্গন রোধের উদ্যোগ শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা:যমুনার অব্যাহত ভাঙ্গন রোধে অবশেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ নিক্ষেপ ও বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দুই মাস ধরে যমুনার ভয়াল ভাঙ্গনে ঐতিহ্যবাহী জাফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ঘোষবাড়ি, মুন্সিকান্দি, গোয়ারীয়া এলাকার কয়েকশ’ বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি বিলীন হলেও মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সময়মত ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই দৈনিক ইত্তেফাক এর প্রথম পাতায় এ বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম গালিভ খান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে যমুনার এ অংশে প্রথম পর্যায়ে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে তিন হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ আজ শনিবার শুরু হবে। সরকারি নিয়মে প্রতিটি জিও ব্যাগে ১২৫ কেজি বালু ভর্তির কথা থাকলেও এলাকার স্বার্থে স্থানীয় মেসার্স আব্দুল কুদ্দুস নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ১৪০ কেজি হারে বালু নেয়া হবে। মনপুরায় ত্রাণ পৌঁছেনি মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা:ভোলার মনপুরার দুর্গত এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছেনি। জোয়ারের পানিতে ঘরে সংরক্ষিত চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ভিজে যাওয়ায় মানুষের কষ্টের শেষ নেই। দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। এবারের পূর্ণিমায় জো’তে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে তা ঢুকে পড়ে উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। পানি কমতে শুরু করলেও দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। দুর্গত এলাকার রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর এখনো ডুবে আছে। এসব এলাকায় এখনো সরকারি সাহায্য পৌঁছেনি। উপজেলার দ. সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের হাজেরা খাতুন বলেন, স্বামী শ্রমিকের কাজ করতো। কিন্তু জোয়ারের পানিতে সব জলমগ্ন থাকায় বর্তমানে তার কোন কাজ নেই। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি বসে থাকায় কষ্টের শেষ নেই তাদের। মনপুরা ইউনিয়নের সিরাজ জানান, আমার ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোন মুহূর্তে ভেঙ্গে পড়তে পারে। এই মুহূর্তে আমার ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই। হাজীর হাট ইউনিয়নের আঃ কাদির জানান, আমরা গরীব মানুষ। দিন এনে দিন খাই। কিন্তু জোয়ারের পানিতে অনেক এলাকা এখনো ডুবে থাকায় কাজ নেই। ফলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দ. সাকুচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অলিউল্যাহ কাজল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র আড়াই মেট্রিক টন চাল। এটা প্রয়োজনের তুলনায় এতই কম যে, বিলি করতে গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের তোপের মুখে পড়তে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের নামের তালিকা চেয়ারম্যানরা করছেন। আর বরাদ্দ যা হয়েছে তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছি। বর্তমান বরাদ্দের চাল রবিবারে উত্তোলন করা হবে বলে তিনি জানান।