ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। প্রতিটি পরিবহন কোম্পানি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঈদ সামনে রেখে সুযোগ সন্ধানী পরিবহন সংস্থাগুলো টিকেট প্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। স্বজনদের সাথে একত্রে ঈদ করার আশায় নিরুপায় যাত্রীরা বাড়তি দামেই টিকেট কিনছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা।
ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মচারীরা। তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ঈদের পরে আবারো পুরনো ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হবে। মালিকপক্ষ ঈদে বাস ভাড়া বাড়ার বিষয়টিকে যৌক্তিক হিসেবেই দেখছেন। তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত হারেই তারা ভাড়া আদায় করছেন। গত বছর সরকার বাসের ভাড়া বাড়ালেও সেই সিদ্ধান্ত এতোদিন কার্যকর করা হয়নি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। তবে মহাসড়কে যানজট ও চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, পরিবহন মালিকদের আয়করের পরিমাণ বাড়ানো, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানা সংকটের কারণে এবার সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করা ছাড়া গত্যন্তর নেই বলে তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও ঈদ বোনাস দেয়ার ঝক্কি মেটানো এবং যাওয়ার সময় যাত্রী পাওয়া গেলেও ফিরতি পথে প্রায় খালি গাড়ি নিয়ে আসাসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয়টিকে অযৌক্তিক মনে করছেন না তারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি কফিলউদ্দিন আহমেদ অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত হারেই ভাড়া নিচ্ছি। গত বছর সরকার বাসের যে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছিল সেটা এতোদিন কার্যকর করা হয়নি। ‘কনসেশন’ দিয়ে এতোদিন যাত্রী পরিবহন করেছি। এছাড়া চলতি বছর থেকে আমাদের আয়করের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। তাই আমরাও আর ছাড় না দিয়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়াই আদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে এবং বরিশাল, খুলনা, যশোর, মেহেরপুর, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন রুটে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ইউনিক পরিবহনের বিআরটিসি কাউন্টারের এক কর্মী জানান, ২০ জুলাই পর্যন্ত আগের ভাড়াই নেয়া হচ্ছে। তবে ২১ জুলাই থেকে সব রুটেই বাড়তি ভাড়া নেয়া হবে। আবদুস সাত্তার নামে রাজবাড়ীগামী এক যাত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে রাজবাড়ী যেতে তিনি ৭০০ টাকায় টিকেট কিনতে পারেন। কিন্তু তিনি আগামী ২৮ জুলাইয়ের একটি টিকেট কিনেছেন ১০০০ টাকায়। সাহেল নামে খুলনাগামী এক যাত্রী জানালেন, খুলনার স্বাভাবিক ভাড়া ৯৫০ টাকা। কিন্তু ঈদের কারণে নেয়া হচ্ছে ১২৫০ টাকা। রাজশাহীর যাত্রীদেরকে ৭০০ টাকার টিকেট কিনতে হচ্ছে ১০০০ টাকায়। এভাবে সব রুটেই অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
কিছুদিন আগেও চট্টগ্রাম থেকে নওগাঁ ৭০০ টাকা, বগুড়া ৬৫০ টাকা, রংপুর ৭৫০ টাকা, দিনাজপুর ৮০০ টাকা, সৈয়দপুর ৭৫০ টাকা, কুড়িগ্রাম ৮৫০ টাকা, পাটগ্রাম ৮৫০ টাকা, হিলি ৮৫০ টাকা, পঞ্চগড় ৮৫০ টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮০০ টাকা, পাবনা ৭৫০ টাকা, ঈশ্বরদী ৭০০ টাকা এবং চুয়াডাঙ্গা ৭০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হতো।
তবে ঈদের জন্য এসব রুটে ভাড়া বেড়েছে লাগামহীনভাবে। কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনাজপুরের ভাড়া ৪০০ টাকা ?বাড়িয়ে ১২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া নওগাঁ ১০০০ টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১২০০ টাকা, রংপুর ১১০০ টাকা, বগুড়া ৯০০ টাকা, পাটগ্রাম, পঞ্চগড় ও হিলি ১৩০০ টাকা এবং পাবনার টিকেট ১১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
