কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতা গুলীবিদ্ধ হয়েছেন। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীদের হামলায় পুলিশের একজন এসআইসহ আরো ৩ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুলীবিদ্ধ ৫ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরে মিছিল সমাবেশ ও ভাংচুর করে এবং তারা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এই ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে শহরের ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে ট্রাফিক পুলিশ একটি চোরাই মোটর সাইকেল আটক করলে এ নিয়ে শহর ছাত্রলীগ নেতা হিমুর সাথে পুলিশের তর্কাতর্কি হয়। এরই জের ধরে কয়েকজন পুলিশ ছাত্রলীগ নেতা হিমুকে মারধর করে। ঘটনাটি মীমাংসা করার জন্য সদর থানার এএসআই কামরুল শহরের এসআলম কাউন্টারে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে বসলে সেখানে তাকে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতারা। এরপর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আলী আহমদ থানায় গেলে সেখানে পুলিশ তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ ছাত্রলীগ কর্মীদের। এরই প্রতিবাদে ছাত্রলীগ কর্মীরা রাত ৮টার দিকে থানা ঘেরাও করতে গেলে এক পর্যায়ে ট্রাফিক অফিস ভাংচুর করে। এসময় পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালালে শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানসহ অন্তত ৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা গুলিবিদ্ধ হন। এসময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা পথে পেয়ে রামু থানার এসআই খালেদকে মারধর এবং মোটর সাইকেল ভাংচুর করে।
এদিকে এ ঘটনায় আহত শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান (৫৫), জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়ছারুল হক জুয়েল (৩৫), শহর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবি ছিদ্দিক খোকন (৩৪), হোটেল শ্রমিক লীগের আবদুর রশিদ, আওয়ামী লীগ কর্মী শহীদসহ ১০ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানান শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর।
তিনি জানান, ছাত্রলীগের সাথে পুলিশের উত্তেজনা দেখা দিলে নেতারা তাদের নিবৃত্ত করতে গিয়েছিলেন।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফজুর রহমান জানান, ট্রাফিক অফিসে হামলাকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়।
