আজ ২০ রমজান। আজকের সূর্য অস্ত গেলে আসবে ২১ রমজান। শুরু হবে মাহে রমজানের দোযখের আগুন থেকে মুক্তির দশক যা শওয়ালের চাঁদ দেখা পর্যন্ত বলবত্ থাকবে। রমজানের শেষ দশকে রয়েছে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম রজনী লায়লাতুল কদর। প্রিয় নবী সরকারে দোআলম নূরে মজাসসম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম মসজিদুন্ নব্বীতে তওবার খুঁটির পাশে তাঁবু খাটিয়ে ই‘তিকাফ করতেন। ই‘তিকাফ শব্দের অর্থ একটি স্থানে অবস্থান করা। ই‘তিকাফ বলতে বুঝায় আধ্যাত্মিক অনুধ্যান ও অনুশীলনের জন্য নিভৃতে অবস্থান গ্রহণ। রমজানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করার প্রধান কারণ লায়লাতুল কদরকে পাওয়ার স্পৃহা।
সূফীয়ারে কেরাম ই‘তিকাফের উপর খাস গুরুত্ব আরোপ করেছেন। যুগশ্রেষ্ঠ সূফী কুত্বুল আলম হযরত মাওলানা শাহ্সূফী আলহাজ্ব তোয়াজউদ্দীন আহ্মদ রহমাতুল্লা‘হি আলায়হি বলেছেনঃ ই‘তিকাফ হালতে শবে কদরকে একান্ত নিকট থেকে অবলোকন করা যায়। ২০ রমজানের সূর্য অস্ত যাবার সঙ্গে সঙ্গে ই‘তিকাফের সময় শুরু হয়। জামে ‘মসজিদে ই‘তিকাফ করা উত্তম। শওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে ই‘তিকাফের সময় শেষ হয়ে যায়। ই‘তিকাফ অবস্থায় সাংসারিক কাজ-কর্ম করা, হাট-বাজার করা, কেনা-কাটা প্রভৃতি করা যায় না। দুনিয়াবী কথা-বার্তা বলা যায় না। প্রস্রাব-পায়খানার প্রয়োজনে এবং অপরিহার্য গোসল করার প্রয়োজনে অল্প সময়ের জন্য ই‘তিকাফ স্থল থেকে বাইরে যেয়ে দ্রুত কর্ম সম্পন্ন করে ত্বরিত ই‘তিকাফ স্থলে ফিরে আসতে হবে। মেয়েরা আপন গৃহে পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে নির্জনবাসের পরিবেশ সৃষ্টি করে ই‘তিকাফ করতে পারেন। রমজান মাসের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কিফায়।
অতএব কোনো পাড়া বা মহল্লার মসজিদে ই‘তিকাফ না হলে সে মহল্লার অধিবাসীগণ গোনাহগার হয়ে যাবেন। আর সেই মহল্লার বা পাড়ার একজনও যদি ই‘তিকাফ করেন তাহলে সবাই তার সমান সওয়াব পেয়ে যাবেন। সিয়ামের রাতে স্ত্রী গমন বৈধ হলেও ই‘তিকাফ অবস্থায় রাতে স্ত্রী গমন করা নিষিদ্ধ।
ই‘তিকাফ অবস্থায় যিক্র-আয্কার, মুবাকা-মুশাহাদা, কুরআন তিলাওয়াত তওবা-ইসিতগ্ফার, দরূদ শরীফ ইত্যাদি করার মাধ্যমে দিন-রাত গুজরান করতে হয়।
হাদীস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি রমজানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করবে তার জন্য তা হবে দুটো হজ্ব ও দুটো উমরা পালন করার সমতুল্য। (বায়হাকী)।
