পৌরসভার এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে বয়স্কদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা উত্তোলন ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাসেল সরকার উত্তম নিজ ওয়ার্ডের বয়স্কদের শারীরিক অসুস্থতার কথা ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। ওই প্রত্যয়নপত্রে প্যানেল মেয়র-১, ২ ও ৩ এর নামসহ স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু ২ ও ৩ নামে তানোর পৌরসভায় কোনো প্যানেল মেয়র নেই। প্যানেল মেয়র-১ রমেছা বিবি ৭, ৮ ও ৯ সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর।
গত ১৩ জুলাই কাউন্সিলর উত্তম পৌরসভার ভুয়া প্যাড ব্যবহার করে তার সুপারিশকৃত কার্ডধারীদের অসুস্থতার প্রত্যয়নপত্র ব্যাংকে জমা দিয়ে ১৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
কার্ডধারী সোনাভান রাহেমা বলেন, কার্ডের জন্য পৌরসভার টিউবওয়েল মিস্ত্রী ওমর আলী ২ হাজার টাকা করে নিয়ে কাউন্সিলর উত্তমকে দিয়েছেন। অসুস্থতার ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়ে তাদের ভাতার টাকা তুলে কাউন্সিলর উত্তম পৌর কর্মচারী ওমর আলীর মাধ্যমে তার কাছে ৮০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি টাকা নেননি। ২ হাজার টাকা দিয়ে ৮০০ টাকা গ্রহণের কোনো মানে হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান বলেন, নিয়মে আছে প্রত্যেক কার্ডধারীকে কার্ড দেখিয়ে ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। উক্ত হিসাবে জমার পর সংশ্লিষ্টরা চেক দিয়ে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে কে বা কারা উপজেলা সমাজসেবা দফতর থেকে কার্ডগুলো কাউন্সিলরের হাতে দিয়েছেন তা তিনি বলতে পারেননি।
তানোর পৌরসভার মেয়র ফিরোজ সরকার উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, যারা বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাত্ করেন তারা কেমন জনপ্রতিনিধি। পৌর কার্যালয় থেকে বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য কাউকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয়নি।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
