প্রসঙ্গে :হিন্দু নারী অধিকার

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২১:৫২
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন হয়নি শুধু বাংলাদেশের হিন্দু নারী অধিকার আইন। ফলে এ দেশে হিন্দু নারীরা অনেক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মা-বাবার সম্মতিতেই তো একটি সন্তানের জন্ম হয়। সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, মা কিন্তু একই প্রক্রিয়ায় বড় করে তোলেন উভয়কেই, এখানে কিন্তু কোনো বৈষম্য পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু সম্পত্তিগত প্রশ্নে ছেলের অধিকার স্বীকৃত। যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন না হওয়াতেই এমনটি হচ্ছে। কোনো পিতার যদি পুত্রসন্তান না থাকে তাহলে ঐ পিতার বিষয় সম্পত্তি পিতার ঔরসজাত কন্যা বা কন্যারা পাবে না, এটা বৈষম্য নয় কি? এ দেশে হিন্দু নারীরা পিতার সম্পত্তি পাবে না, স্বামীর সম্পত্তিও পাবে না। তাহলে ওরা যাবে কোথায়? দেখা যায় অনেক ছেলে পিতার মৃত্যুর পরে মাকেভাত-কাপড় দেয় না (এমন নজিরের অভাব নেই)। ঐ মাকে তখন পেটের দায়ে পরের বাড়িতে ঝিগিরি অথবা ভিক্ষা বৃত্তি করতে হয়। কন্যাকে কন্যা হিসেবে না দেখে সন্তান হিসেবে গণ্য করে পিতা ও স্বামীর সম্পত্তির অংশ দেওয়া প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মেয়েরা সম্প্রতি পিতা এবং স্বামী উভয়েরই সম্পত্তির অংশ পাচ্ছেন। পরিশেষে, ধর্ম মন্ত্রণালয়, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট ও সুশীল সমাজের প্রতি আকুল আবেদন— এ দেশের হিন্দু নারীরা যেন পিতা ও স্বামীর সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। সেজন্য আইনটির যুগোপযোগী সংস্কার করা হোক। ইতি বাগচী, গোপালপুর, লালপুর, নাটোর