মুক্তি পেয়ে ইরাক থেকে ফিরলেন আরো ১৫ বাংলাদেশি

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২২:২২
মুক্তি পেয়ে ইরাক থেকে আরো ১৫ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। গতকাল শনিবার এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। এই ১৫ জন তিকরিতে ২৪ দিন বন্দী ছিলেন। প্রসঙ্গত, ১ জুলাই ইরাক থেকে ২৭ জন এবং ৮ জুলাই আরও ৫১ জন বাংলাদেশি ফিরে আসেন। পরে ১১ জুলাই ফিরেছেন আরও সাতজন। তারা সবাই চাকরি করতেন বাগদাদের দক্ষিণ কোরিয়ান কোম্পানি হনুয়াতে। তবে যুদ্ধাবস্থার কারণে নিজেদের উদ্যোগেই তারা দেশে ফিরেছেন। তবে গতকাল যে ১৫ জন ফিরেছেন তারা সরকারি উদ্যোগে ফিরেছেন। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব বদিয়ার রহমান, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন ও সহকারী পরিচালক জাহিদ আনোয়ার বিমানবন্দরে উল্লিখিত ১৫ জনকে গ্রহণ করেন। মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় গতকাল প্রথম ১৫ জন ইরাক থেকে দেশে ফেরত এলেন। ফেরত আসা প্রত্যেককে কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে আপাতত দুই হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। ইরাকের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান খান জানান, তিকরিতে জিম্মি হওয়া ৩১ জন বাংলাদেশির সঙ্গে শুরু থেকেই আমাদের যোগাযোগ ছিল। এদের মধ্যে ১৬ জন পালিয়ে গেছেন বলে শুনেছি। আসলে অনেকেই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও এখানে থেকে খরচের টাকা তুলতে চান। যে ১৫ জন ফিরেছেন, তারা দূতাবাসের সহযোগিতায় ফিরেছেন। এ জন্য দূতাবাসের প্রায় ১০ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। ফেরত আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলামিন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, আমরা তিকরিতে গর্ভনর হাউসে ৩১ জন বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি করতাম। হঠাত্ করেই তিকরিতে যুদ্ধাবস্থা শুরু হয়। আমাদের মধ্যে তখন আতঙ্ক। হঠাত্ করেই একদিন বিদ্রোহীরা গভর্নর হাউসের দখল নেয়। এরপর তারা আমাদের ৩১ জনকে জিম্মি করে। আমরা তাদের বারবার বলি, ভাই আমরা চাকরি করতে এই দেশে আসছি। আমাদের মেরো না। আমাদের কথায় তাদের মন কিছুটা হলেও গলে। তারা তখন আমাদের মারবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ২৪ দিন আটকে রাখে। পরে তিকরিত থেকে মুক্ত করে আমাদের পাশের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ভারতীয় ৪৬ জন নার্সকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। ওই ৪৬ জনসহ আমাদের কয়েকটি গাড়িতে করে কুর্দিস্থানে রেখে আসে অপহরণকারীরা। আলামিন বলেন, সেখানে ভারতীয় দূতাবাসের দু’জন কর্মকর্তা ছিল। পরে কুর্দিস্থানের নিরাপত্তাবাহিনী ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের আমাদের বিমানবন্দরে নিয়ে যেতে বলে। এরপর আমরা ইরবিল বিমানবন্দরে আসি। সেখান থেকে দূতাবাসের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। আলামিন ছাড়া গতকাল আরও যারা দেশে ফিরেছেন তারা হলেন ময়মনসিংহের মাহবুব আলম, মোহাম্মদ মোস্তফা, শরীয়তপুরের জসিম সরকার, নরসিংদীর হান্নান মিয়া ও রাসেল মিয়া, মুন্সিগঞ্জের স্বপন মোল্লা, গাজীপুরের শফিকুল ইসলাম, বগুড়ার বাতেনুর রহমান, টাঙ্গাইলের বাবুল মিয়া, কক্সবাজারের নান্নু মিয়া, নারায়ণগঞ্জের ওয়াহিদ হোসেন, কিশোরগঞ্জের নূর আলম, মাগুরার মোকাদ্দেস হোসেন ও গোপালগঞ্জের সেলিম শেখ।