মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহি ভূপাতিত বিমানটির নিহত যাত্রীদের মালামাল রুশপন্থি বিদ্রোহীরা লুটপাট করেছে দাবি করেছে ইউক্রেন। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিমানটি যখন বিদ্রোহীরা ক্ষেপণাস্ত্র মেরে মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত করে তখন বিমানের যাত্রীদের লাগেজ ও অন্যান্য মালপত্র চারিদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। ইউক্রেনের ওই অঞ্চলের দখলে থাকা রুশপন্থি বিদ্রোহীরা এসব মালপত্র লুটপাট করতে ছুটে যায়। তারা যাত্রীদের গহনা, ক্রেডিট কার্ড, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ যা পেয়েছে তাই লুট করে। তাদের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিদ্রাহীরা ঘটনাস্থল থেকে ৩৮টি মৃতদেহ ডনেস্কের একটি মর্গে নিয়ে গেছে।
এই দাবির পেছনে তথ্যপ্রমাণ আছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন সরকার। যদিও সিএনএনের এক সাংবাদিক বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে কোনো বিদ্রোহীকে লুটপাট করতে স্বচক্ষে দেখেননি। তবে ডেইলি মেইল একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একজন ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিকের মৃতদেহ তল্লাশি করে তার মালপত্র হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আরেকজনের ভিডিওচিত্রে ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, বিদ্রোহীরা একজন নিহত ব্যক্তির লাগেজ থেকে বাইনোকুলার বের করছে। তবে সেটি ভেঙে যাওয়ায় বিরক্ত হয়ে আকাশে ছুড়ে মারছে। ইউক্রেনের দাবি, এসব দৃশ্য প্রমাণ করে বিদ্রোহীরাই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে বিমানটি ভূপাতিত করেছে।
তদন্ত দলকে বাধা: বিধ্বস্ত মালয়েশীয় বিমানের ধ্বংসাবশেষ নিরীক্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপীয় একটি তদন্ত দল। দলটি বলছে, সশস্ত্র ব্যক্তিদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত তারা ফিরে গেছে। বিদ্রোহীরা এই দুর্ঘটনার আলামত ও তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বিমানটির ধ্বংসাবশেষ নিরীক্ষণ করতে তদন্ত দলকে কাজ করার অনুমতি দেবে বলে জানানোর পর ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থা বা ওএসসিই’র ২৫ জন সদস্য সেখানে যায়।
সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছিল যে, তদন্ত দলটি ঘটনাস্থলে পূর্ণ সহযোগিতা পাবে। কিন্তু সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন যখন ঐ পর্যবেক্ষণ দলটি সেখানে যায় তারা সেখানে একদল সশস্ত্র ব্যক্তিদের বাধার মুখে পড়েন। তিনি বলেন, ঐ বন্দুকধারীদের অনেকেই মদ্যপ ছিলেন বলে মনে হচ্ছিল এবং তাদের একজন আবার ফাঁকা গুলিও ছোড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টারও কিছুটা বেশি সময় পর যখন বিশেষজ্ঞদের দল স্থানটিতে তদন্ত করতে ব্যর্থ হন তখন তারা ফেরত আসেন। ওএসসিই’তে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থমাস গ্রেমিনজার বলেন, পর্যবেক্ষণকারীরা সেখানে খুব অল্প এলাকা দেখতে পেরেছে। যে কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে তার অল্প স্থানেই তারা যেতে পেরেছে। তারা সেখানে নিরাপদে যেমন ছিলেন না তেমনি স্থানটি সিলগালা করতেও পারেননি। বিবিসির একজন প্রতিনিধি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানটিতে গিয়ে অনেক পোড়া মৃতদেহ, বিমানের আসন এবং লাগেজ দেখেছেন বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়। গত বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ১৭ ইউক্রেনের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হলে ২৯৮ যাত্রী এবং ক্রু নিহত হন। কারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে ইউক্রেনের রুশপন্থি বিদ্রোহীরা ‘বাক’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এটি ভূপাতিত করেছে। বিপরীতে বিদ্রোহীরা এবং রাশিয়া অভিযোগ করেছে এই ঘটনার জন্য ইউক্রেন দায়ী। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, পুরো ঘটনার জন্য পুতিন সমর্থিত ইউক্রেনের বিদ্রোহীরা দায়ী।
ক্ষুব্ধ রাশিয়া:মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মালয়েশীয় বিমানটি ইউক্রেনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় রুশপন্থী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রেই ভূপাতিত হয়েছে বলে উল্লেখ করার পর রাশিয়া গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে। শনিবার রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, মার্কিন প্রশাসন তদন্তের ফলের অপেক্ষা না করেই বিদ্রোহী ও রাশিয়ার ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাচ্ছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলোকে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য ইউক্রেনে কী ঘটছে সে সম্পর্কে মার্কিন ধারণার গভীর রাজনৈতিক বিচ্যুতিরই প্রমাণ।’
