ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে ঈদে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রে পিরোজপুরের কাউখালীর স্টিমার যাত্রীদের দুর্ভোগের আশংকা করা হচ্ছে। এবার ঈদে তেমন কোন বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় ঘরমুখো মানুষ নৌপথে বাড়ি ফিরতে দুর্ভোগে পড়বেন। ঢাকা থেকে স্টিমারে পিরোজপুরের কাউখালী আসতে তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করতে হয় এ অঞ্চলের শত শত যাত্রীকে। দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণীর কোন কেবিন কাউখালী স্টেশনের জন্য বরাদ্দ ও বাড়তি কোন স্টিমার সার্ভিস না থাকায় দুর্ভোগের আশংকা দেখা দিয়েছে।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা ভেবেছিলেন অন্তত পক্ষে ঈদের সময় দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণীর কেবিনের কোটা বরাদ্দ পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় ও প্রথম শ্রেণীর কেবিনের কোটা বরাদ্দতো দূরের কথা অতিরিক্ত একটি বিশেষ স্টিমারের ব্যবস্থা করা হলেও সেটি ঢাকা-বরিশাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে কাউখালীর মানুষের ভাগ্যে পূর্বের অবস্থাই এবার ঈদে বহাল থাকছে। ঢাকা থেকে কাউখালী গামী স্টিমার শুক্রবার বাদে প্রতিদিন ছেড়ে আসে একটি করে। পুরনো স্টিমার পিএস অস্ট্রিস, পিএস মাসুদ, পিএস লেপচা , পিএস টার্ন, এমভি শেলার মতো পুরনো স্টিমারগুলো সংস্কার না করেই ঈদের যাত্রী বহনের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ জুলাই থেকে স্টিমার সার্ভিসের এই ব্যবস্থা শুরু হয়ে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। একটি বড় স্টিমারে যাত্রী বহন করতে পারে সবমিলিয়ে ৬০০ জন। কিন্তু ঈদের সময় এর যাত্রীসংখ্যা দ্বিগুণ/তিনগুণ হয়ে থাকে। ফলে ঝুঁকি নিয়েই ওই পুরনো স্টিমারগুলোতে ঈদে এবার বাড়ি ফিরতে হবে উপকূলের হাজার হাজার যাত্রীর। এছাড়া এ রুটের গাবখান চ্যানেল থেকে কাউখালী স্টিমার ঘাট পৌঁছতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ভয় রয়েছে। কেননা নৌ সিগন্যাল অমান্য করেই এই চ্যানেলে জাহাজ চলাচল করে। কিছুদিন পূর্বে এমভি লেপচার সাথে মালবাহী একটি জাহাজের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ফলে এমভি লেপচার প্যাডেল ভেঙ্গে অর্ধলক্ষ টাকার ক্ষতি হয় এবং অর্ধশত যাত্রীও আহত হয়।
কাউখালী বিআইডব্লিউটিসি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ঈদের সময় স্টিমারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ ও তিনগুণ যাত্রী বাধ্য হয়ে আমাদের বহন করতে হয়।
