ট্রেন ও বিআরটিসির টিকিটই শেষ ভরসা

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৭
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শেষ। পাওয়া যাচ্ছে না লঞ্চেরও টিকিট। বাকি আছে সারাদেশে আন্তঃনগর ট্রেন ও বিআরটিসি বাসের টিকিট বিক্রি। তাই সরকার নিয়ন্ত্রিত ট্রেন ও বাস এখন ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের শেষ ভরসা। আজ রবিবার থেকে শুরু হয়ে অগ্রিম টিকিট বিক্রি কার্যক্রম চলবে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। ইতিমধ্যে এই দু’টি সংস্থার টিকিট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন ঘরমুখো মানুষেরা। সেহরির পরপরই টিকিট কাউন্টারে জমায়েত হবেন তারা। গত ১৪ জুলাই থেকে দূরপাল্লার বাস কোম্পানিগুলো বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে। বাস কাউন্টারে এখন পাওয়া যাচ্ছে না কোন অগ্রিম টিকিট। ফলে বিপাকে আছে ঘরমুখো মানুষ। একই অবস্থা লঞ্চের। ১৭ জুলাইয়ের আগে লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। কিন্তু মন্ত্রীর এ আদেশ অমান্য করে টিকিট বিক্রি শেষ করেছেন লঞ্চ মালিকরা। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মালিক কর্তৃপক্ষ নিজেরাই পরবর্তীতে উচ্চদামে টিকিট বিক্রির জন্য মজুদ করে রেখেছেন। এ ছাড়া কেবিনের টিকিটের একটি বড় অংশই সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকরা ইতিমধ্যে নিয়ে নিয়েছেন। আগামী ২৪ জুলাই থেকে স্পেশাল লঞ্চ চলাচল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মালিকরা। মালিক সমিতির লঞ্চ চলাচলের তালিকায় দেখা গেছে, ঢাকা-বরিশাল রুটে আগামী ২৬ জুলাই ৫টি নিয়মিত লঞ্চের পাশাপাশি ৪টি স্পেশাল সার্ভিস, ২৭ জুলাই নিয়মিত ৪টি ও স্পেশাল ৪টি, ২৮ জুলাই ৪টি নিয়মিত ও ৫টি স্পেশাল লঞ্চ চলাচল করবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের লঞ্চ যাত্রা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হবে। নৌ পথে প্রবল বাতাস ও সে াত বেশি। বৃষ্টির ভরা মৌসুমে ঈদ হচ্ছে। ফলে নৌ-পথের যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। আজ থেকে ট্রেনের টিকিট আজ রবিবার থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু করছে রেলওয়ে। আজ পাওয়া যাবে আগামী ২৪ জুলাইয়ে ট্রেন যাত্রার টিকিট। রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্ট্রেশনসহ জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্ট্রেশন থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। রেলওয়ে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাঁচ দিন অগ্রিম টিকিট বিক্রির কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২৫ জুলাই ট্রেন যাত্রার টিকিট ২১ জুলাই, ২৬ জুলাইয়ের টিকিট ২২ জুলাই, ২৭ জুলাইয়ের যাত্রার টিকিট ২৩ জুলাই এবং ২৮ জুলাইয়ের টিকিট পাওয়া যাবে ২৪ জুলাই। ঈদের পর ফিরতি ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু করা হবে ২৭ জুলাই থেকে। সেদিন বিক্রি করা হবে ৩১ জুলাইয়ের ফিরতি ট্রেনের টিকিট। এবারও একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারবেন। সেইসঙ্গে টিকিটে ভ্রমণকারির বয়স ও জেন্ডার নির্ধারণে পুরুষ হলে ‘এম’ এবং নারী হলে ‘এফ’ লেখা থাকবে। এতে টিকিট হস্তান্তর করা কঠিন হবে। কালোবাজারি রোধে এবার প্রথম এই উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। রেলওয়ের মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন জানান, ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ বাজার, ঢাকা থেকে পার্বতীপুর, ঢাকা থেকে খুলনায় এক জোড়া করে এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে ২ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। বিশেষ ট্রেনগুলো ঈদের তিন দিন আগে থেকে এবং ঈদের একদিন পর ৫ থেকে ৭ দিন চলাচল করবে। এছাড়া ১৬৬টি কোচ ঈদের আগে বহরে যুক্ত হবে। বিআরটিসির ৯০০ বাস সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বাসের টিকিট আজ রবিবার থেকে বিক্রি শুরু হচ্ছে। সংস্থার ৭টি ডিপো মতিঝিল, গাজীপুর, জোয়ারসাহারা, উথলী, নারায়ণগঞ্জ, কল্যাণপুর ও মহাখালী থেকে এ টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদে ঢাকা থেকে ৫০০টি ও দেশের অন্যান্য ডিপো থেকে ৪০০টি বাস যাত্রী পরিবহন করবে বলে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন। ঈদ স্পেশাল বাস সার্ভিস আগামী ২৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ঈদের পরবর্তী তিন পর্যন্ত চলবে। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মতিঝিল ডিপোতে ঢাকা থেকে বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, কুটিচৌমোহনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা ও কক্সবাজারগামী বাসের আগাম টিকিট বিক্রি হবে। গাজীপুর ডিপোতে ঢাকা থেকে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল, জোয়ারসাহারা বাস ডিপোতে ঢাকা থেকে পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা, জামালপুর ও তাড়াইল, উথলী বাস ডিপোতে রংপুর, নওগাঁ, বগুড়া পাবনা ও কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ বাস ডিপোতে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, বাজিতপুর ও বিয়ানীবাজার, মহাখালী বাস ডিপোতে ঢাকা থেকে রংপুর, নওগাঁ ও কিশোরগঞ্জ ও কল্যাণপুর বাস ডিপো ঢাকা থেকে রংপুর, দিনাজপুর, নওগাঁ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নাটোর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, জামালপুর, মধুপুর ও পাটুরিয়াগামী বাসের টিকিট বিক্রি হবে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আগেই বিআরটিসি ডিপো ম্যানেজারদের সতর্ক করে বলেছেন, বেশি ভাড়া নেয়ার প্রমাণ পেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বাস কাউন্টারে মনিটরিং টিম সজাগ থেকে কাজ করবে। বিআরটিসির প্রতিবাদ গত শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকে ‘অতিরিক্ত ভাড়া নেবে বিআরটিসিও’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিআরটিসি। ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রতিবাদলিপিতে বলেন, ২০ জুলাই থেকে বিআরটিসির অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যেখানে এখনো টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি, সেখানে বেশি ভাড়া নেয়ার প্রস্তুতি চলার বক্তব্য কাল্পনিক। তবে কোন অনিয়মের তথ্য পেলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদকের বক্তব্য ঃ কল্পনাপ্রসূত প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়নি। বিআরটিসির টিকিট বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কোন রুটে কত অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হবে তারও চিত্র তুলে ধরা হয়।