ঝুট ব্যবসায়ী মোহনসহ ৩ জনকে পুলিশ খুঁজছে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২৩:০০
পুলিশ হেফাজতে নিহত ব্যবসায়ীর স্বজনদের অভিযোগ ও গ্রেফতারকৃত এসআই জাহিদুর রহমান খানের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ঝুট ব্যবসায়ী মোহনসহ তিনজনকে খুঁজছে পুলিশ। অপর দু’জন হলেন, বাবু ও মাসুম। সুজনের স্বজনরা বলছেন, ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে মোহন তার ঘনিষ্ঠজন এসআই জাহিদকে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান। থানায় আটকে রেখে পেটানোর বিষয়টি পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ ও মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন খান জানতেন। সুজন মারা যাওয়ার পর এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা এসআই জাহিদের পক্ষ নেন। তারা সুজনকে অসুস্থ ও বুকে ব্যথা অনুভব করার পর মারা গেছে বলে প্রচার করেন। এদিকে, নিহত সুজনের পরিবারের পক্ষ থেকে আজ রবিবার আদালতে হত্যা ও নারী-শিশু নির্যাতনের অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের করবেন বলে নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম শামীম জানিয়েছেন। মামলায় এসআই জাহিদ ছাড়াও পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ, ওসি সালাউদ্দিন খান ও ওসি (তদন্ত) মাইনুল হাসানকে আসামি করা হবে। শনিবার রাতে ঝুট ব্যবসায়ী সুজন, তার স্ত্রী মমতা, সন্তান মোশারফকে ধানমন্ডির শংকরের বাসা থেকে আটক করে মিরপুর থানায় নেয়। থানার একটি কক্ষে সুজনকে আটকে রেখে বেধড়ক পেটানো হয়। এরপর ভোরে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে ও গ্রেফতারকৃত সোর্স নাসিম শেখকে পাঁচ দিনের রিমাণ্ডে নেয় ডিবি। শনিবার ছিল এই দুইজনকে রিমান্ডে নেয়ার দ্বিতীয় দিন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র ইন্সপেক্টর নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ঘটনার আদ্যোপান্ত তার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে। সুজনের মৃত্যুর আগের ও পরের ঘটনাক্রমের সঙ্গে তার বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সোর্স জাহিদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনও এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। হত্যা মামলার আসামি তিন পুলিশ সদস্য ও তিন সোর্সকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তদন্ত সূত্র জানায়, নিহত সুজনের পরিবারের অভিযোগ, ঝুট ব্যবসায়ী মোহনের সঙ্গে এসআই জাহিদের সখ্য রয়েছে। সুজনের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল মোহনের। তার প্ররোচনাতেই জাহিদ ঘটনার দিন রাতে সুজনকে গ্রেফতার করেন। এ সময় তিনি ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে দেড় লাখ টাকাও চান। এর আগে একই কারণে সুজনের ছোট ভাই সবুজকেও গ্রেফতার করে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। অন্যদিকে, ডিবি’র মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি টিম গতকাল শনিবার ধানমণ্ডির শংকরে জাহিদের বাসায় যায়। তারা এ সময় আশপাশের মানুষের সঙ্গে কথা বলে ঐ রাতের ঘটনার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন। এর আগে শুক্রবার পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুরো ঘটনায় পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার, মিরপুর থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সোর্সদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম শামীম বলেন, পুলিশ নিজেদের মতো করে মামলা সাজিয়েছে। তাই আমরা রবিবার আলাদাভাবে আদালতে মামলা করবো। এতে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাসহ সবাইকেই আসামি করা হবে।