আগস্টে রাজপথে নামছে দুই দল

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৪, ২৩:২৪
আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সর্বশক্তি নিয়ে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করা হবে। আন্দোলনে বাধা দিলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে। অপরদিকে বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলায় মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে দল পুনর্গঠনের কাজও করবে তারা। এতে নতুন করে রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় আওয়ামী লীগ মেহেদী হাসান বিএনপির আন্দোলনের হুমকি আমলে না নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আগামী মাসে (আগস্ট) মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশজুড়ে মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। ঈদের পরই রাজধানীর সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি ঘোষণার পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের মাধ্যমে নগর নেতার নাম ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে শুরু হবে সারাদেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর। আর এর মাধ্যমে বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব জনগণের সামনে তুলে ধরা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিভেদ মিটিয়ে সারাদেশে মেয়াদোত্তীর্ণ পৌর, উপজেলা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও জেলা সম্মেলন সম্পন্ন, দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়সহ সর্বস্তরে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়ন করার কাজ শুরু হবে। আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন করার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের সকল সদস্যের ডাটাবেজ তৈরির কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দল শোকের মাস আগস্টে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সকল বিভাগে সমাবেশ করবে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া ঢাকায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে একটি প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দিবেন। আগামী সপ্তাহে এসব কর্মসূচির দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। জানা গেছে, সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকে মোটেও আমলেই নিচ্ছে না। দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, মেয়াদ পূর্তির এক দিন আগেও ক্ষমতা ছাড়বে না সরকার। কারণ সংবিধানসম্মত উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের নীতি-নির্ধারক মহল মনে করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দেশ উন্নতির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের আগেই বাংলাদেশ একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে। আর বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভুল করেছে। তাই পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের জন্য ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে। ঈদের পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হয়। দীর্ঘ ৯ বছর পরে অনুষ্ঠিত হওয়া এ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছিল খুব দ্রুতই মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হবে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ১৭ মাস। এখনও সেই কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। এ নিয়ে মহানগরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল, হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। এ কারণে ঈদের পরই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের হাইকমান্ড। তৃণমূল আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব নিরসন করবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও দ্বন্দ্ব দিন দিন বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন না হওয়ার পাশাপাশি আধিপত্যের লড়াই, প্রাধান্য বিস্তার এবং একক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের শত্রু হয়ে উঠছে আওয়ামী লীগই। প্রায়ই দেশের কোন না কোন স্থানে আওয়ামী লীগের হাতে আওয়ামী লীগ রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। অধিকাংশ নির্বাচনী আসনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, দলীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। নেতৃত্বে পরিবর্তন না আসা, দলীয় কর্মসূচীতে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশ না নেয়া, নিজস্ব বাহিনী তৈরির মাধ্যমে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা ও অবহেলা করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং তৃণমূল সম্মেলনে নিজেদের পছন্দের অযোগ্য ব্যক্তিদের বসানোর চেষ্টা প্রভৃতি কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সাংগঠনিক অনৈক্য ছাড়াও রক্তক্ষয়ী সংষর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত সাড়ে পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রায় ১৯০ জন নিহত হয়েছেন। এ কারণে সারাদেশে সফরের মাধ্যমে তৃণমূল আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব-বিভেদ নিরসনের উদ্যোগ নেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে সারাদেশে সাংগঠনিক সফরের টিমও গঠন করা হয়েছে। সারাদেশে ২০ শতাংশ ভোটার বাড়ানোর উদ্যোগ ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারিতে রাজধানী ঢাকায় সারাদেশের তৃণমূলের নেতাদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন দলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান। দলের পক্ষ্য থেকে এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহ টার্গেট নেয়া হলেও গত ৪ বছরে ২০ শতাংশের বেশি পূরণ হয়নি। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ২৫টি জেলায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান এখনো শুরুই হয়নি। জানা গেছে, কেন্দ ীয় নেতারা সাংগঠনিক সফর না করায়, দুর্বল মনিটরিং, স্থানীয় মন্ত্রী-এমপিদের তৃণমূল নেতাদের অবহেলা এবং কোথাও কোথাও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দ্বন্দের কারণে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান কর্মসূচিতে মোটেও গতি আসেনি। ঈদের পরে কেন্দ্রীয় নেতারা সারাদেশে সাংগঠনিক সফরের মাধ্যমে নতুন করে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন অভিযান বেগবান করবেন। এক্ষেত্রে ঈদের পর সাংগঠনিক সফর ও সম্মেলনের মাধ্যমে সারাদেশে ২০ শতাংশ ভোটার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আপাতত আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করছি। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সেখানে অবিলম্বে সম্মেলনে করা হবে। আর এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঈদের পরই মাঠে নামবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে কোন লাভ হবে না। অতীতে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল। ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আমরা চূড়ান্ত আন্দোলন করেছিলাম। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তারা ক্ষমতা ছাড়েনি। এখনও নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সফল হওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা হবে। কোন ছাড় দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ জানান, বিএনপি আন্দোলন করতে চাচ্ছে, করুক। তারাই এ নিয়ে ভাবুক। সরকার এ নিয়ে ভাবছে না। ওরা আসলে কাগুজে বাঘ। বিএনপি চায় সরকার হটাতে আনোয়ার আলদীন ঈদের পর বিএনপি রাজধানীতে মহাসমাবেশের মাধ্যমে ‘সরকার হটানোর’ আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই আন্দোলন জোরদার করতে ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার কয়েকটি সমাবেশ করার চিন্তা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বাধা এলে সরাসরি হরতাল এবং অবরোধে যাবে বিএনপি। খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে রেখেছেন। ঈদের পরপরই দলের স্থায়ী কমিটি ও জোটের বৈঠকে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। গতকাল রাতে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গেছেন খালেদা জিয়া। ঈদের একদিন আগে তার দেশে ফেরার কথা। সেখানে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসছেন। আন্দোলন কর্মপন্থা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা হবে। গতকাল বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা ও স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে। এই নেতারা মনে করেন আন্দোলন হঠাত্ করেই তুঙ্গে তোলা যাবে না। ধাপে ধাপে ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। মূলত সমাবেশ করে এবং গণঅবস্থানের মত কর্মসূচি দিয়ে কর্মীদের আবারো আন্দোলনের মাঠে আনা হবে। শান্তিপূর্ণভাবে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে এক ধরনের ‘ওয়ার্ম-আপ’ হবে নেতাকর্মীদের। সরকার কর্মসূচিতে বাধা না দিলে আগামী কোরবানীর ঈদ পর্যন্ত এভাবেই চলবে। অতঃপর নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে চূড়ান্ত ’আল্টিমেটাম’ দেবেন খালেদা জিয়া। আল্টিমেটাম না মানলে কোরবানী ঈদের পরেই কঠোর আন্দোলন শুরু করতে চায় দলটি। নেতারা বলছেন, সরকার আন্দোলন ঠেকানোর জন্য যে যে ’কঠোর’ পদক্ষেপ নেবে তা জেনে-শুনেই মাঠে নামবেন নেতারা। সরকারের পদক্ষেপের পাল্টা ব্যবস্থা কি নেয়া যায় তা নিয়ে দলের বিভিন্ন ফোরামে নানাভাবে আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়া মাহে রমজান শুরুর পর প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন ইফতারে যোগ দিয়ে ঈদের পর তাঁরা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। সবাইকে রাজপথে নামারও আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেছেন, অহিংস আন্দোলন হবে। আন্দোলন মানে মারধর, জ্বালাও-পোড়াও নয়। ঈদের পরে আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। তিনি বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, ঈদের পর আওয়ামী লীগও পাল্টা রাজপথে নামবে। আপনারা রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভালো। তবে পুলিশ ও গুণ্ডা বাহিনী নিয়ে অস্ত্র হাতে রাজপথে নামবেন না। এটা করা হলে পাল্টা জবাব দেয়া হবে। এর পরিণতি ভালো হবে না। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেছেন, ছাত্রদল, যুবদল,স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো আন্দোলনের ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ গুলোকে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র রাজধানীতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর ’মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’র ব্যর্থতার পটভূমিতে ঢাকা মহানগর বিএনপি ভেঙ্গে মির্জা আব্বাস এবং হাবিবুন নবী খান সোহেলকে দিয়ে শুক্রবার নতুন আহবায়ক কমিটি করেছেন বেগম জিয়া। খালেদা জিয়া নেতাদের জানিয়েছেন,‘ছাত্রদল,যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলকে আন্দোলন উপযোগী করে নতুন নেতৃত্ব এনে কমিটি দেয়া হবে ঈদের পর। যোগ্য ও সাহসী নেতাদের দিয়ে এসব সংগঠন পুনর্গঠন হবে।’ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দল প্রস্তুত আছে। দেশের মানুষও প্রস্তুত। আন্দোলন শুরু হবে। বিজয় জনগণেরই হবে। তিনি বলেন, ঈদের পর নতুন গতিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামবে বিএনপি। নতুন নির্বাচন আয়োজন ও দল গোছানোর জন্য সকল ধরনের পরিকল্পনা বিষয়ে কাজ চলছে। নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বিএনপি আন্দোলনে বিশ্বাসী। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আন্দোলন হবে। প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আন্দোলনের জন্য দলের নেতাকর্মীদের কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। মহানগর বিএনপির নতুন আহবায়ক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ঈদের পর বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। আশা করবো আমাদের অহিংস আন্দোলন সরকার দমন করার চেষ্টা করবেন না। দমনের চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ যে ভাষায় কথা বলবে জনগণ সে ভাষাতেই জবাব দেওয়া অধিকার রাখে। নবগঠিত মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা এখনও বলবত্ আছে। ম্যাডামের নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের পর আন্দোলন হবে । সে আন্দোলনে ঢাকার জনগণ বিজয়ী হবে।