প্রিয় শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্রের ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতা থেকে সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করা হলো
নদীর স্বপ্ন
প্রশ্ন ১। নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নুরু, শাফি, আয়েশা, রেহানা বড়দের দৃষ্টি এড়িয়ে পরির দিঘির পাড়ে মিলিত হয়েছে। বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে চাল, ডাল, ডিম, মসলা সবকিছু। জমিয়ে পিকনিক হবে। রান্নার ধুম লেগেছে। রান্না শেষ হতেই নুরুর দেখাদেখি সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ল দিঘির জলে। দাপাদাপি যেন শেষ হতেই চায় না। শেষে রেহানার চেঁচামেচিতে সবাই এসে কলাপাতায় পাত পেড়ে খেতে বসল। খাবার মুখে দিয়েই এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে। নুন— নুন দেয়া হয় নি যে। আবার এক দফা হেসে নিয়ে সবাই গপাগপ খিচুড়ি খেতে বসে গেল। খুউব ক্ষুধা পেয়েছে যে।
(ক) রান্নার কারসাজি দেখাবে কে?
(খ) নৌকা-ভ্রমণের বিনিময়ে কানাই মাঝিকে কী দিতে চেয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
(গ) উদ্দীপকের সাথে কবিতার কী অমিল লক্ষ করা যায়— আলোচনা কর।
(ঘ) বিষয়বস্তু ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও কবিতাটি কিশোর মনের আবেগ প্রকাশের দিক থেকে অভিন্ন— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর:
(ক) রান্নার কারসাজি দেখাবে ছোকানু।
(খ) নৌকা ভ্রমণের বিনিময়ে কানাই মাঝিকে একটি রুপোর সিকি ও দুটো আনি দিতে চেয়েছিল।
দুরন্ত কিশোর কানাই তার ছোট বোন ছোকানুকে নিয়ে নৌকায় ভ্রমণ করার স্বপ্ন দেখে। সে তাকে এবং তার ছোট বোনকে নৌকায় তোলার জন্য মাঝিকে অনুরোধ করে। নৌকা ভ্রমণের পারিশ্রমিক হিসেবে তার কাছে থাকা রুপোর সিকি এবং বোনের কাছে থাকা দুটো আনি সবই মাঝিকে সে দিতে চায়। অন্যভাবে বলতে গেলে তাদের সবটুকু সম্বলই কানাই নৌকা ভ্রমণের বিনিময়ে মাঝিকে দিতে চায়।
(গ) উদ্দীপকের নুরু, শফি, আয়েশা, রেহানা বড়দের দৃষ্টি এড়িয়ে পিকনিক করে তাদের কল্পনা বা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছে। কিন্তু ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কানাইয়ের স্বপ্ন কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে কবিতার অমিল লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের নুরু, শফি, আয়েশা, রেহানা তাদের কৈশোরের দুরন্তপনায় অজানায় হারানের স্বপ্নকে সার্থক করে তুলেছে। মনের সাধ মিটিয়ে তারা জমিয়ে পিকনিক করেছে পরির দিঘির পাড়ে। তারা যে যার বাড়ি থেকে রান্নার সব উপকরণ নিয়ে এসেছে। তারা দিঘির জলে দাপাদাপি শেষে কলাপাতায় রান্না করা খিচুড়ি খেয়েছে।
‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতার কানাইও ছোট বোন ছোকানুকে নিয়ে নৌকায় পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেছে। সে তার বোনকে নিয়ে একের পর এক নদী পাড়ি দিয়ে মনের সাধ পূরণ করতে চায়। কিন্তু কানাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়িত হয় নি। কানাইয়ের নৌকা ভ্রমণের স্বপ্নকে সে বাস্তবের নৌকা ভ্রমণ দ্বারা সার্থক করতে পারে নি। অথচ উদ্দীপকের কিশোর-কিশোরীরা তাদের কল্পনাকে বাস্তবে সম্ভব করেছে। এদিক থেকে উদ্দীপকের সাথে কবিতার অমিল লক্ষ করা যায়।
(ঘ) উদ্দীপক ও ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতাটি বিষয়বস্তুর দিক থেকে আলাদা হলেও উভয়ই কিশোর মনের আবেগ প্রকাশের দিক থেকে এক এবং অভিন্ন।
উদ্দীপকে কিশোর মনের আবেগ পিকনিকের আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে। দিঘির পাড়ে জমিয়ে রান্নাবান্না করে তারা তাদের দুরন্তপনার বাস্তব জীবনে হারিয়ে গেছে। ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায়ও একজন কিশোরের দুরন্তপনার চমত্কার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ছোট বোন ছোকানুকে নিয়ে সে হারিয়ে গেছে কল্পনার অন্য ভুবনে।
উদ্দীপকের নুরু, শফি, আয়েশা, রেহানা সবাই কৈশোর জীবন পার করেছে। মনের আবেগকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য তাদের অদম্য ইচ্ছা। বড়দের সকল বিধি-নিষেধ দূরে ঠেলে তারা পরীর দিঘির পাড়ে পিকনিকের আনন্দে মেতে উঠেছে। দিঘির জলে অবাধ দাপাদাপির পর পরিতৃপ্তির ভোজ তাদের আবেগকে অবাধ স্বাধীনতার রূপ দিয়েছে। ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় দুরন্ত কিশোর কানাই কল্পনার ভেলায় ভেসে ভেসে নদীর নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করেছে। এখানে কল্পনাবিলাসী এক বালকের নৌকা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে মনের আবেগ প্রকাশের মনোমুগ্ধকর চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। কিশোর বয়সের ধরনই হলো দুরন্তপনা ও আপোসহীন। বাঁধভাঙা কল্পনার উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া এই বয়সের স্বভাব। বড়দের শত বাধা-বিঘ্ন উপেক্ষা করেও তারা অজানার পানে হারিয়ে যেতে চায়। উদ্দীপক ও ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কিশোর মনের আবেগ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকের আবেগের প্রকাশ ঘটেছে পিকনিকের আয়োজনে আর ‘নদীর স্বপ্ন’ কবিতায় নদী ভ্রমণের কল্পনার ভুবনে হারিয়ে গিয়ে।
