দীনা রহমান

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৪, ২০:৩৮
ছোটবেলায় ঠিক করেছিলাম আঁকাআঁকি করবো। তখন অভিনয়, গান দারুণ টানতো। এ কারণেই সে সময়টাতে শিশু একাডেমিতে নিয়মিত যাওয়া-আসা হতো। কিন্তু বড় বড় হতে হতে শেষমেষ ইচ্ছেগুলোও যেন কোথায় হারিয়ে গেলো। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরুতে না পেরুতেই সিদ্ধান্ত নিলাম ডেন্টিস্ট হবো। আর দশটা মানুষের পাশে দাঁড়াবার সুযোগ এর চেয়ে ভালো আর কোন পেশায় আছে? ভর্তি হলাম পাইওনিয়ার মেডিক্যাল কলেজে। পেশাগত জীবনে গিয়ে অনেক ডাক্তারের মতো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ স্বপ্নটা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে কিনা জানি না, কিন্তু আমি সত্যিকার অর্থেই একজন নারী চিকিত্সক হিসেবে চাই সপ্তাহে অন্তত একটা দিন দরিদ্র নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যেতে চাই। বর্তমানে ‘ফর দ্য পিপল’ নামে বাচ্চাদের একটি প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে চিকিত্সা সেবা দিচ্ছি। কাজটাতে যেমন নির্মল আনন্দ আছে, তেমনি এক ধরনের প্রশান্তিও আছে। দাঁতের রোগ ও পরিচর্যার বিষয়ে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে বড় ধরনের অনীহা ও অজ্ঞতা আছে। এটা দেশের জন্য যেমন বড় আকারের স্বাস্থ্যঝুঁকি, তেমনি এই জায়গাটায় দাঁড়িয়ে ভালো কাজ করারও সম্ভাবনা আছে। অনেকেই ডেন্টিস্ট পেশায় নারীদের দেখতে অভ্যস্ত নন। এছাড়া এ পেশায় অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্য স্বীকৃতিও মেলে না। এসব কারণে নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিও দেখা যায় অনেকের মধ্যে। কিন্ত আমি মনে করি গুরুত্বপূর্ণ এ পেশায় নেতৃত্ব দেয়ার জন্য ভবিষ্যতে পুরুষের চেয়ে নারীরাই এগিয়ে যাবে। ইদানীং বেশির ভাগ ডেন্টাল কলেজে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, তাদের ৬০ ভাগই মেয়ে। আমার মতে এটা খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন। মেয়েরা যেভাবে এগিয়ে আসছে, সেটা দেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। ব্যক্তিগত জীবনে ডাক্তারীর পাশাপাশি সৃষ্টিশীল মাধ্যমে কাজ করার প্রবল আগ্রহ আছে আমার। আর সেটা হতে পারে শৈশবের সেই অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন কিংবা অন্যকিছু। প্রস্তুতি পর্ব চলছে। একদিন নতুন দিন আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।