ফ্যাশন ডিজাইনার ও চেয়ারপার্সন, সাদা কালো
তাহসিনা শাহিন গ্রাফিক্স ডিজাইনে পাঠ নিয়েছেন ঢাকা চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে। দীর্ঘদিন কাজ করেছেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা এশিয়াটিক-এ। রবীন্দ্র সঙ্গীত শিখেছেন ছায়ানট, আনন্দধ্বনি ও পরবর্তীতে শিল্পী মিতা হকের কাছে। ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশন ডিজাইনিং-এর উপর বিশেষ ঝোঁক ছিল। প্রেরণা ছিলেন মা। চার বোনের সবার ছোট তাহসিনা শাহিন, ছোটবেলা থেকেই মা শিখিয়ে ছিলেন স্বাবলম্বী মানুষ হতে। নিজেদের পোশাক তৈরি করে নেয়া, টিউশনী করে রোজগার করা এসবের মধ্যেই মা তাদের বড়ো করেছেন। ২০০২ সালে সাদা-কালো এক নতুন কনসেপ্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে। শুধু মাত্রই সাদা ও কালো রঙ নিয়ে একটি ফ্যাশন হাউজ চলতে পারে বা পারবে অনেকের কাছেই ধারণা ছিল এ নিছক শখের পাগলামি। কনসেপট্যুয়াল ডিজাইন নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন তাহসিনা শাহিন। সাদা-কালোর রঙের পাশাপাশি নতুন নতুন কনসেপ্টকে প্রাধান্য দেন তিনি। ছোটবেলায় দেখা ‘আড়ং’ দেখে প্রাণিত হয়েছিলেন, আড়ং-এর মতন একটি ফ্যাশন হাউজ করবেন বলে ভেবে রেখেছিলেন ছোটবেলায়। সাদা-কালোর সূচনা হয়েছিল নিজের চাকরির পুঁজি ও সাদা-কালোর আরো একজন সহ কর্ণধার আজাদ ভাইয়ের যৌথ লগ্নীতে। এরপর সাদা-কালো এগিয়ে গেছে নিরন্তর পরিশ্রমে। ১১টি আউটলেট এখন সাদা-কালোর যার মধ্যে দুটি বিদেশে।
সাদা-কালোর ব্র্যান্ড নেম দেশ ছাপিয়ে বিদেশেও সুবিদিত। বাবা ও মা দিবসে সাদা-কালোই প্রথম বাংলায় বাবা-মা’র জন্য মগ আনে, এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা দিবস, ৩৬৫ দিনের মগ এসব মিলে নতুন নতুন কনসেপ্টে কাজ করে থাকে সাদা কালো। সফল উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংকের ঋণ পেয়েছে সাদা-কালো, সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসায়িক সফলতা ও লেনদেনেও সাদা-কালো রেখে চলেছে নিয়মতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত। এবারের ঈদেও সাদা -কালো দুই প্রজন্মের কথা ভেবে ট্রাডিশনাল ও আধুনিক ডিজাইনকে প্রাধান্য দিয়েছে। এবছর তাদের দুই প্রজন্মের জন্য মডেল হয়েছেন অভিনেতা ফেরদৌস ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয় ভাষিণী। হাতের কাজ, সূতার কাজ, বিভিন্ন রকম প্রিন্ট ও সূচিকর্ম উঠে এসেছে ডিজাইনে। শাড়িতে ট্রাডিশনাল হাতের কাজ ও প্রিন্টের আধুনিকতা দুইই থাকছে। সালোয়ার কামিজের জন্য বেল বটম ও রেগুলার সালোয়ার দুই-ই থাকবে। পাঞ্জাবির লেনথ-এ শর্ট, ফিটিং, নরমাল ও লং সবই থাকছে প্রজন্মের পছন্দ অনুযায়ী, জুয়েলারী কালেকশানে সাদা-কালো মাটি ও সূতার গহনা থাকছে। মূল্য নির্ধারণে সাদা-কালো সবসময়ই ক্রেতার সামর্থ্যকে সম্মান করে আসছে।
লিপি খন্দকার
ম্যানেজিং ডিরেকটর ও চিফ ডিজাইনার, বিবিয়ানা
ঢাকা চারুকলা ইন্সটিটিউটে পেইন্টিং-এ পড়েছিলেন লিপি খন্দকার। নিজের হাতে সেলাই ও ড্রেসের ডিজাইন নকশাটা শুরু হয়েছিল মায়ের হাত ধরে। ৫ বোন তারা। মা খুব ভালো সেলাই জানতেন নিজেই ৫ বোনের জন্য সেলাই ডিজাইন, স্মোকিং করতেন। দীর্ঘদিন আড়ং-এ ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। আড়ং-এ থাকাকালীন ভারতের আহমেদাবাদে এনআইডিতে টেক্সটাইল এন্ড এ্যাপারেল ডিজাইনে ইনটেনসিভ গ্রাজুয়েশন করেন। ২০০২ সালে বিবিয়ানার যাত্রা শুরু হয় ধানমন্ডি ৫ নম্বরে। ব্যবসায়িক যাত্রা রীতিমতো শুরু হয় বিশ্বস্ততাকে পুঁজি করে। তাঁতী ও কারু শিল্পীরা বাকিতে কাজ দিলেন লিপি খন্দকারকে। বিবিয়ানার একটি আউটলেট থেকে বিবিয়ানা আজ ৯টি আউটলেটে বিস্তৃত। দেশের বাইরেও বিবিয়ানার পোশাকের রয়েছে পছন্দের ক্রেতা। ডিজাইনিং ও বিজনেস দুটিতে সফলতা অর্জন করেছেন লিপি খন্দকার। দেশজ কাপড় তার মূল ম্যাটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহার হয়। ফ্যাশন মানে কেবল তিনি পার্টি ড্রেসের সীমাবদ্ধতাকে মানেন না।
দেশি পোশাককে জনপ্রিয় করা তার মূল লক্ষ্য। এবারের ঈদে তার ডিজাইনের স্পেশালিটি থাকছে, মেক্সিকান পটারী। যা উঠে এসেছে শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে। কালার প্যালেটে স্থান পেয়েছে ব্রাইট রঙের প্রাধান্য। ব্লু, গ্রীন, অরেঞ্জ, ইয়োলো... ফুশিয়া... এ ধরনের রঙগুলো। হ্যান্ডস্টীচ শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ তো থাকছেই। কামিজের লং লেনথ ও রুেরার কামিজ থাকছে। সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে লিপি খন্দকার ইতিমধ্যেই অর্জন করেছেন স্বনামধন্যতা। বিদেশি পোশাকের আগ্রাসন রুখতে তিনি স্বদেশী পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কাজ করছেন। ক্রেতার অর্থনৈতিক সামর্থ্যকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে থাকে সফল স্বদেশী ব্র্যান্ড বিবিয়ানা।
