বাগেরহাট জেলা সদর হয়ে সরাসরি সুন্দরবনের সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী কচুয়ার সাইনবোর্ড-মোড়েলগঞ্জ- শরনখোলা-বগী আঞ্চলিক সড়কটির নির্মাণ কাজ ৪ বছরেও শেষ হয়নি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন এই সড়কটির জায়গায় জায়গায় ভেঙ্গে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচলের অনুপযোগী এই সড়কটিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এই বর্ষা মৌসুমে তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষকে পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে পহেলা জুলাই থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১২ সালের জুন মাসের মধ্যে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু না হয়ে এক বছর পর ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল ৩ টি ভাগে মাত্র ১৭.৩৬ কিলোমিটার সড়কে কাজ শুরু হয়। যা শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের গেল জুন মাসের মধ্যে। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬০ ভাগ। সড়ক বিভাগের দাবি, অবশিষ্ট ৪০ ভাগ কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এই মহাসড়কের অবশিষ্ট ৩৪.৭৯ কিলোমিটারের কাজ বর্ধিত সময়ে ২০১৬ সালের জুন মাসে শেষ হবে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।
পরিবহন শ্রমিকরা জানায়, ঈদের আগে সব সড়ক ও মহাসড়ক যানবাহন চলাচলের উপযোগী হবে—যোগাযোগ মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর আমরা আশ্বান্বিত হয়েছিলাম। তবে জুন মাসের মধ্যে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের অর্থ থেকে এই সড়কের খানা-খন্দ মেরামত না করায় এই বর্ষায় সড়কের অবস্থা আরও করুণ হয়েছে। মন্ত্রীর নির্দেশ এ মহাসড়কটির ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি।
শরনখোলা উপজেলার তাফালবাড়ি গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাগেরহাট জেলা সদরে আদালতে আসতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। মাত্র ৪০ কিলোমিটার পথ আসতে সময় লাগে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। প্রায় সময়ই খানা খন্দের কারণে পায়ে হাঁটা লাগে অনেক পথ।
যাত্রীবাহি বাসের সুপারভাইজার ও চালকরা বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হয়। অনেক সময় গর্তের মধ্যে গাড়ির চাকা আটকে যায়। এতে যানবাহনের ক্ষতি হয়। আমরা সরকারের কাছে সড়কটি দ্রুত নির্মাণ দাবি জানাই।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ আব্দুল জানান, ৫২.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির ব্রিজ- কালভার্ট ও মাটির কাজ শেষ হয়েছে। নানা কারণে একটু বিলম্ব হলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
