বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের গুলি করে হত্যা করে :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৪, ২২:৪২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষকদের গুলি করে হত্যা করে। বিএনপির সারসহ কৃষি উপকরণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ১৯৯৫ সালে ১৮ জন কৃষক গুলিতে নিহত হন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কৃষিবান্ধব। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে আওয়াম লীগ কৃষিখাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। কার্যকরী পদক্ষেপের কারণে খাদ্য ঘাটতির দেশ খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়। কৃষকরা এখন কৃষি উপকরণ ন্যায্যমূল্যে ও সহজে সরবরাহ করতে পাচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে তা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্টদের আরো সক্রিয় ও তত্পর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান। এ সময় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী তাকে স্বাগত জানান। বিএনপি দেশকে লুলা বানিয়ে রাখতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে তাদের সীমাহীন দুর্নীতিতে দেশের কৃষিখাত মুখ থুবড়ে পড়ে। সেই সময়ে সংসদে বিএনপির অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, কৃষির উত্পাদন বেশি হলে বিদেশি সাহায্য কমে যাবে। আমরা এ কথার প্রতিবাদ করেছিলাম। বিএনপি চেয়েছিল দেশ যেন সবসময় ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে থাকে। শেখ হাসিনা বলেন, ছোট বেলায় শুনেছি, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ধরে নিয়ে তাদের হাত পা লুলা করে তাদের দিয়ে ভিক্ষা করানো হয়। বিএনপিও দেশকে সেভাবে পঙ্গু করে রাখতে চেয়েছিল। মূলত তারা দেশের ভালো চায় না। তারা দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র বানাতেও চেয়েছিল। নিজেদের দৈন্য রেখে পরের কাছে ভিক্ষা করে সাহায্য নিতে চায় তারা। তিনি বলেন, দেশের কৃষক সমাজের নিরলস পরিশ্রমে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। কৃষিকে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র কাজ হিসেবে আখ্যায়িত এবং খাদ্যের জন্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে কৃষিকাজে আগ্রহী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষিতদের কৃষি কাজে অনীহা দূর করতে হবে। কৃষকের ছেলে লেখাপড়া শিখে কৃষি কাজের জন্য মাঠে যেতে চায় না। এ অনীহা দূর করতে হবে। কৃষিকে আরো বেশি করে যান্ত্রিকীকরণ করা হলে শিক্ষিতরা কৃষি কাজে আগ্রহী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি কৃষি উত্পাদন বাড়ানো এবং এই ক্ষেত্রে বহুমাত্রিকতার জন্য গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে এমনভাবে যুক্ত করতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা কৃষি কাজে উত্সাহিত হয়। বাংলাদেশে এক সময় উত্পাদিত ভোজ্যতেলের ব্যবহারের কথা তুলে ধরে সেদিন আবার ফিরিয়ে আনতে কৃষি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগে তিলের তেল, সরষের তেল, বাদামের তেল ব্যবহার হতো। কেন যে এই তেল বাদ দিয়ে বাইরে থেকে আনা সয়াবিন তেল খাই? আমাদের যেন ভোজ্যতেল আর বাইরে থেকে আনতে না হয়। রেজাল্ট বেইজড কৃষি গবেষণা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি অর্থবছরেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকার কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্দীপনা ও উত্সাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৭ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গত অর্থবছরে ১ হাজার ২২২ জন কৃষি বিজ্ঞানীকে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের ১৪টি জেলার সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। কৃষির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আগে শিল্পকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হতো। কিন্তু কৃষি ছাড়া শিল্প চলে না। আর বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষি। তাই কৃষিকে সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ কৃষিখাতের নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, কৃষিকে টেকসই করে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে জাতীয় কৃষি নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এর আলোকে ‘জাতীয় কৃষি সমপ্রসারণ নীতি ২০১৪’ এবং ‘জাতীয় ক্ষুদ্রসেচ নীতি ২০১৪’ প্রণয়নের কাজ চলছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জেগে উঠা চরাঞ্চলকে চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও এই এলাকার কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে সবাইকে আরও এগিয়ে আসার আহবান জানান শেখ হাসিনা। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ, কৃষি সচিব নাজমুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরীসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।