গাজায় লাশের মিছিলে আরো ৬২ ফিলিস্তিনি

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৪
গাজায় লাশের মিছিলে যোগ হয়েছে আরো ৬২ জনের বেশি ফিলিস্তিনের লাশ। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিমান এবং ট্যাংকের দ্বিমুখী হামলায় গতকাল রবিবার একটি শহরেই মারা গেছে ৬২ জনের বেশি। গাজার পূর্বাঞ্চলের শেজাইয়া শহরে এত বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা ৪২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর বিবিসির। শেজাইয়া শহরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা স্থল অভিযান আরো বাড়িয়েছে। ট্যাংকের হামলায় সেখানে অ্যাম্বুলেন্সও পৌছাতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে বিমান থেকেও বোমা বর্ষণ করা হয়। বাসিন্দারা বিক্ষিপ্তভাবে পালাচ্ছে। তারা সঙ্গে করে কিছুই নিতে পারেনি। এমনকি অনেকে তার সন্তানকেও নিতে পারেনি। বাড়ি-ঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হামলা থেকে বাদ যায়নি মসজিদও। এই শহরটিতে ৮০ হাজার লোক বাস করে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তার বাবা মারা গেছেন। কিন্তু তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বেঁচে আছেন না মারা গেছেন সেই সম্পর্কে তিনি কিছু জানতে পারছেন না। আর এক বৃদ্ধা হাত উঠিয়ে আল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বিলাপ করছেন। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ছিল। তবে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, এক ঘন্টারও কম সময় গোলাগুলি বন্ধ ছিল। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১৩ দিনে নিহতের সংখ্যা ৪২৫জনের বেশি। আহত হয়েছে প্রায় তিন হাজার। জাতিসংঘ জানিয়েছে, নিহতের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ফিলিস্তিনদের পালানোর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গাজার বিভিন্ন স্কুলে প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা আশ্রয় নিয়েছে। হামাস জানিয়েছেন, তারা ইসরাইলে একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছেন যাতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে গতকাল কাতারে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। মহাসচিব বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন। গত সপ্তাহে মিসর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও হামাস সেটা প্রত্যাখান করে। এরপর ইসরাইল সামরিক অভিযান আরো বৃদ্ধি করে। গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল।